নতুন হুমকি ক্যান্সার মোকাবিলায় ক্যান্সার কেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২৮ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সারের (আইএআরসি) সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর দেড় লাখ মানুষ নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। মারা যায় এক লাখ আট হাজার। এই সংখ্যা প্রতি বছর বেড়েই চলছে।

এই ক্যান্সার মোকাবিলায় দেশের বিভাগীয় শহরে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা। আজ মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়

‘বিভাগীয় শহরে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন’ শিরোনামের এই প্রকল্পে ব্যয় হবে ২ হাজার ৩৮৮ কোটি ৩৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা। এর পুরোটাই দেবে সরকার। চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে স্বাস্থ্য অধিদফতর প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

একনেক সভা পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, ‘বিভাগীয় শহরে যেসব সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আছে, সেখানে একশ শয্যা বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। কারণ, ক্যান্সার আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য একটা নতুন হুমকি। কেমিক্যাল জাতীয় খাবার-দাবারসহ নানা কারণে আমাদের দেশে ক্যান্সারের প্রকোপ বাড়ছে। এটা মোকাবেলা করার জন্য আমরা বিভাগীয় আটটি শহরে এই ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করব। একনেক সভায় বিষয়টি ওঠার পর জনকল্যাণ বিবেচনায় সঙ্গে সঙ্গে অনুমোদন দিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’

প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হলো শুরুতেই ক্যান্সার রোগ নির্ণয় এবং সময় মতো ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা। ক্যান্সার চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণ ও বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে চিকিৎসা সেবার আওতায় আনা। ক্যান্সার চিকিৎসা সেবায় বৈদেশিক নির্ভরতা কমিয়ে আনার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করা।

স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, ঢাকার মহাখালীতে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা ৫০ থেকে ৩০০-তে উন্নীত করা হয়েছে। যেখানে যুক্ত করা হয়েছে রেডিওথেরাপির আধুনিক যন্ত্রপাতি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকার বাইরে বগুড়াতে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেডিওথেরাপির সর্বাধুনিক লিনিয়ার এক্সিলারেটর মেশিন সংযুক্ত হয়েছে। পুরাতন আটটি বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সবগুলোতে পূর্ণাঙ্গভাবে ক্যান্সার বিকিরণ চিকিৎসা, কেমোথেরাপির ব্যবস্থা চালু নেই। বেসরকারি খাতে কয়েকটি বড় হাসপাতালের রেডিওথেরাপিসহ ক্যান্সার চিকিৎসা চালু রয়েছে, যেখানে স্বচ্ছল অনেক রোগী চিকিৎসা নিতে পারলেও চিকিৎসা খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। একমাত্র জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালটি রাজধানীকেন্দ্রীক। তাই সরকারি খাতে চিকিৎসার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইও) মতে, প্রতি ১০ লাখ জনগোষ্ঠীর জন্য একটি রেডিওথেরাপি চিকিৎসা-সুবিধা সম্বলিত ক্যান্সার সেবা কেন্দ্রের প্রয়োজন। অর্থাৎ বাংলাদেশের ১৬ কোটি জনগোষ্ঠীর জন্য রেডিওথেরাপি মেশিন ও পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল সম্বলিত ১৬০টি ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রয়োজন।

এরকম প্রেক্ষাপটে বিভাগীয় শহরে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের এই প্রস্তাব অনুমোদন দিল একনেক।

এই প্রকল্পের আওতায় বিভাগীয় ৮টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে দোতলা বেইজমেন্ট ও ১৫ তলা ফাউন্ডেশনসহ মোট ১৭তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। ৮৮৮ কোটি ৩২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা ও শল্য চিকিৎসা সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করা হবে। ২৬ কোটি ৬৭ লাখ ৭৯ হাজার টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র সংগ্রহ করা হবে। ৫ কোটি ৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি জিপ, একটি কার, একটি ডাবল কেবিন পিক-আপ এবং ৮টি অ্যাম্বুলেন্সসহ ১১টি যানবাহন কেনা হবে।

পিডি/এনএফ/জেআইএম