পূজায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাড়ে ৩ লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:০৫ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আসন্ন দুর্গাপূজায় সারাদেশে ৩১ হাজার ১০০টি পূজা মন্ডপ হবে। এসব পূজা মন্ডপের নিরাপত্তায় প্রায় সাড়ে ৩ লাখ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত এক সভা শেষে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এবার সারাদেশে পূজা মন্ডপের সংখ্যা ৩১ হাজার ১০০টি। আমাদের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ বলেছেন, এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। গত বছরের তুলনায় এবার কমপক্ষে এক হাজার পূজা মন্ডপ বাড়বে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীতে গত বছরের তুলনায় ২৩৭টি পূজা মন্ডপ বাড়ছে। পূজা মন্ডপগুলোর আশপাশে পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। যেখানে বিদ্যুৎ আছে সেখানের মন্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর ও আর্চওয়ে স্থাপনের জন্যও বলা হয়েছে।’

আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘সারাদেশে পূজা মন্ডপে সার্বক্ষণিক সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন। দুর্গাপূজায় বিঘ্ন সৃষ্টিকারী ও দুষ্কৃতিকারীদের অশুভ তৎপরতা রোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ জন্য গোয়েন্দা সংস্থাসহ আমরা সবাই সজাগ থাকব।’

প্রতিটি পূজা মন্ডপে স্থানীয়দের সমন্বয়ে একটি আইন-শৃঙ্খলা কমিটি থাকবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবকও থাকবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তারা সমন্বয় করে কাজ করবে। এবার পূজা মন্ডপে মহিলা স্বেচ্ছাসেবকও থাকবে। স্থানীয় বখাটেরা যেন পূজা মন্ডপে নারীদের উত্ত্যক্ত করতে না পারে সে জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ স্বেচ্ছাসেবকরা প্রস্তুত থাকবে ‘

মন্ত্রী বলেন, ‘পূজা মণ্ডপের আশপাশের এলাকায় যাতে জুয়া, হাউজিসহ এ ধরনের কর্মকাণ্ড না হয় সেজন্য যারা পূজা মণ্ডপ পরিচালনা করবে তারা ব্যবস্থা নেবেন। আশা করি পূজা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে উদযাপিত হবে।’

কিছুদিন আগে কয়েক জায়গায় প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সবাই একমত হয়েছি যে, এখানে সব যে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হয়েছে তা নয়। পূজায় নেতৃত্ব ও জায়গা নিয়ে কয়েক জায়গায় মতবিরোধ ছিল, সেজন্য কয়েক জায়গায় (ভাঙচুর) হয়েছে। আরও দু’এক জায়গায় যেখানে ভাঙচুর হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছি। সেগুলো যাতে না ঘটে তারও ব্যবস্থা নিয়েছি।’

সভায় জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. জাবেদ পাটোয়ারী, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জিসহ বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরএমএম/আরএস/এএইচ/জেআইএম/এমএস