প্রতিদিন জাতীয় কবির সমাধি দেখতে যান ২০০ মানুষ

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৩:৪০ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

‘মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিও ভাই, যেন গোরে থেকেও মুয়াজ্জিনের আজান শুনতে পাই।’ দেশের জাতীয় কবির এ ইচ্ছানুসারেই তার দাফন করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) মসজিদের পাশে। তার সমাধিস্থলের চৌহদ্দির দেয়াল ঘেষা মসজিদ থেকে প্রতিদিন মোয়াজ্জেনের কণ্ঠে পাঁচবার আজানের ধ্বনি শোনা যায়।

nazrul

কিন্তু (ঢাবি) ক্যাম্পাসে আসা অনেকেই হয়তো জানেনই না জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম চিরনিদ্রায় শায়িত এই ক্যাম্পাসেই! টিএসসি (বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে) থেকে কিছুদুর এগুলো চারুকলা ইনস্টিটিউট ভবনের সামান্য কয়েকগজ আগেই হাতের বাম পাশে জাতীয় কবির সমাধিস্থল। রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সাধারণ জনগণের জন্য সমাধিস্থলটি খোলা থাকে।

বুধবার জাতীয় কবির সমাধিস্থলে সরেজমিন দেখা যায়, সমাধিস্থলের ভেতরের চৌহদ্দিজুড়ে গাঢ় সবুজ ঘাসের আচ্ছাদন ও গাছপালা, নানা রঙের ফুল ও ফলের গাছ। অনেককেই গাছের ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিতে দেখা গেছে, যেন ছায়া-সুনিবিড় পরিবেশে প্রাণ জুড়িয়ে নিচ্ছেন।

nazrul

এই সমাধিস্থল দেখভালের জন্য তিনজন নিরাপত্তারক্ষী, দুজন মালি ও একজন ক্লিনার রয়েছেন। কর্তব্যরত নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাতীয় কবির জন্মদিবস কিংবা প্রয়াণ দিবসে সমাধিপ্রাঙ্গণে হাজার হাজার মানুষের ভিড় জমে। কিন্তু এমনিতে প্রতিদিন দেড়শ থেকে ২০০ মানুষ কবির সমাধি দেখতে আসেন। ভেতরে প্রবেশ করতে কোনো ফি লাগে না।

nazrul

রাজধানীর মিরপুর থেকে সপরিবারে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘর দেখতে এসেছিলেন মাসুদ মিয়া। জাদুঘর ঘুরে হেঁটে যাওয়ার পথে সাইনবোর্ড পড়ে জাতীয় কবির সমাধিস্থলে প্রবেশ করেন তিনি।

nazrul

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে মাসুদ মিয়া বলেন, সমাধিস্থলের ভেতরটা এতো সুন্দর সাজানো-গোছানো। এ রাস্তা দিয়ে অনেক সময় যাতায়াত করলেও এর আগে ভেতরে প্রবেশ করা হয়নি।

এমইউ/জেডএ/এমএস