জনশক্তি কর্মসংস্থানে টাকার লেনদেন, দুই আনসার সদস্য বদলি

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৭:৩৭ পিএম, ০৯ অক্টোবর ২০১৯

এনফোর্সমেন্ট ইউনিটে আসা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (৯ অক্টোবর) সারাদেশে পাঁচটি অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বিদেশ গমনেচ্ছু শ্রমিকদের ফিঙ্গার প্রিন্ট গ্রহণে অবৈধভাবে অর্থ আদায় ও হয়রানির অভিযোগে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর অধীন ঢাকা কর্মসংস্থান অফিসে অভিযান চালায় দুদক। এতে নেতৃত্ব দেন দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জেসমিন আক্তার।

টিম ছদ্মবেশে অভিযান পরিচালনা করে বেশকিছু অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পায়। দুদক টিম জানতে পারে, উপস্থিত আনসার সদস্য এবং কিছু দালাল শ্রমিকদের সরলতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন সেবা প্রদানের বিভিন্ন স্তরে তাদের কাছ থেকে টাকা আয় করছেন। ফিঙ্গার প্রিন্ট প্রদানের ফরম বিনামূল্যে দেয়ার কথা থাকলেও সেগুলো দালাল ও আনসার সদস্যরা ১০০ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে। এ ছাড়া টাকার বিনিময়ে ফিঙ্গার প্রিন্টের সিরিয়াল এগিয়ে দেয়া হয় বলেও প্রমাণ পায় টিম।

অভিযোগের বিষয়ে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর সহকারী পরিচালক (ইমিগ্রেশন) জান্নাতুল ফিরদাউস রুপার সঙ্গে কথা বলে দুদক টিম। পরে তাৎক্ষণিকভাবে দুইজন আনসার সদস্যকে বদলি করা হয়। এ ছাড়াও দালালদের দৌরাত্ম্য রোধ ও অফিসের আশপাশের ফরম বিক্রির দোকানগুলো বন্ধের জন্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার সুপারিশ করে দুদক টিম।

এদিকে খুলনায় ‘জমি আছে, ঘর নাই’ প্রকল্পে নাম অন্তর্ভুক্তির কথা বলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক। দিঘলিয়া উপজেলার যোগীপোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারমানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ পেয়ে দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয় সোমবার (৭ অক্টোবর) এনফোর্সমেন্ট ইউনিট অভিযান চালায়। ওই প্রকল্পের বিষয়ে আজ তথ্য সংগ্রহ করে প্রাথমিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করে অভিযান পরিচালনাকারী টিম।

প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘর নির্মাণে মন্ত্রণালয়ের ডিজাইন অনুসরণ না করা, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা, দালান ঘর আছে এমন ব্যক্তিকে ঘর দেয়া এবং অনেকের কাছ থেকে ঘরপ্রতি দশ হাজার টাকা করে নিয়ে ঘর বরাদ্দ না দেয়ার প্রাথমিক প্রমাণ পায় দুদক টিম। এ বিষয়ে অনুসন্ধানের সুপারিশ করে কমিশনে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে অভিযান পরিচালনাকারী টিম।

এ ছাড়া আরও তিনটি জায়গায় অভিযান চালায় দুদক।

এমইউ/এসআর/পিআর