ধর্মের নামে মেয়েদের আটকে রাখার যৌক্তিকতা নেই : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:০৯ পিএম, ১২ অক্টোবর ২০১৯

ধর্মের নাম নিয়ে মেয়েদের ঘরে আটকে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, নবী করিম (সা.) যখন ইসলাম ধর্ম প্রচার করতে আসলেন তখন কোনো পুরুষ তো সাহস করে এগিয়ে আসেননি এই ধর্ম প্রচার করতে। এসেছিলেন মেয়েরা। অর্থাৎ বিবি খাদিজাই প্রথম আসলেন এবং তিনি তার সমস্ত ধন-দৌলত দিয়ে সাহায্য করলেন এই ধর্মটা প্রচারের জন্য। সে কথাটা আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে।

শনিবার রাজধানীর ফার্মগেটে খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহিলা শ্রমিক লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা।

নারী-পুরুষের সমতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা সমাজে যদি নারী-পুরুষ সমানভাবে কাজ করতে না পারে, সুযোগ না পায় তাহলে একটা সমাজ দাঁড়াতে পারে না। আমরা দুই পা দিয়ে হাঁটি, এক পা খোঁড়া হলে আমাদের খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়েই চলতে হবে। আর দুই পা ঠিক থাকলে আমরা সুস্থভাবে হাঁটতে পারি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের কিন্তু শুধু শ্রমিক লীগই ছিল, মহিলা শ্রমিক লীগ ছিল না। আমাদের নিজেদের কিন্তু এ রকম সংগঠন ছিল না। কিন্তু তৈরি করতে গিয়ে যে ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে হয়। সব থেকে বাধা আমাদের শ্রমিক লীগের পক্ষ থেকেও যেমন আসে আবার আওয়ামী লীগের নেতারাও জেলায় জেলায় বাধা দিত।

বিদেশে কাজ করতে যাওয়া প্রবাসীদের বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এত সুযোগ-সুবিধা আমরা করে দেয়ার পরেও আমাদের দেশের মানুষের একটা প্রবণতা আছে। অনেক বাড়ির মেয়েরা অনেক সময় লোভে পড়ে, কিছু দালালের খপ্পরে পড়ে তারা পাড়ি জমায়, তারপর বিপদে পড়ে। বিপদে পড়ে তাদের ফিরে আসতে হয়। সেখানে লাঞ্ছিত হয়।

pm-2.jpg

তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে আমি মনে করি, আমাদের মহিলা শ্রমিক লীগের একটা দায়িত্ব আছে। সারা বাংলাদেশে, এটা মানুষের মাঝে একটা সচেতনতা সৃষ্টি করা। যে কেউ যেন এ রকম দালালের খপ্পরে পড়ে বিদেশে পাড়ি না জমায়।

শেখ হাসিনা বলেন, দুর্ভাগ্য হলো এর বাইরেও ঘটনা আছে। অনেক মহিলাকে আমরা উদ্ধার করেছি। বিয়ে হয়ে গেছে। বাচ্চাও হয়ে গেছে। এক সন্তানের জননী। স্বামী, শাশুড়ি, শ্বশুর বাড়ির লোক মিলে ছেলের বউকে বিক্রি করে দিয়েছে। তাকে নিয়ে গেছে একটা পরদেশে। সেখানে তার আশ্রয় হয়েছে পতিতালয়ে। এ রকম খবর পেয়ে সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ রকম অন্যায় যারা করবে তাদের বিরুদ্ধে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং আমরা নেব। আগামীতে যে ধরা পড়বে একটা কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা তাদের করা হবে। কেন এভাবে অন্যায়ভাবে তারা মেয়েদের বিক্রি করবে? সমাজের এই সমস্ত অন্ধকার দিকগুলো দূর করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলায় আমাদের মেয়েরা কম যাচ্ছে না। পনেরো বছরের নিচে যে মেয়েরা ফুটবল খেলছে, তারা তো খুব ভালো করছে। হয়তো বলা যায়, তারা চ্যাম্পিয়ান হয়ে যেতে পারে আঞ্চলিক ফুটবল প্রতিযোগিতায়। ক্রিকেটে তারা ভালো করছে, বিভিন্ন খেলাধুলায় তারা চমৎকার। ক্ষেত্র বিশেষে দেখা যায়, ছেলেদের থেকে আমাদের মেয়েরাই ভালো করে। আস্তে বললাম, আমাদের ছেলেরাও ভালো করছে- এতে কোনো সন্দেহ নাই। মেয়েরা কিন্তু খুব দ্রুত এগোচ্ছে।

তিনি বলেন, সমাজকে পাল্টে ফেলে নারী-পুরুষের অধিকার সেটা আজকে নিশ্চিত হয়েছে।

সংগঠনের সভাপতি রওশন জাহান সাথীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শামসুন্নাহার বেগম।

এইউএ/জেডএ/এমএস