কালুরঘাটে আরেকটি সড়কসেতু হলে সমস্যা নেই : ভূমিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৬:৩৯ পিএম, ১২ অক্টোবর ২০১৯

চট্টগ্রামের কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর ওপর আরও একটি সেতুর দাবিতে এবার মুখ খুললেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ।

কর্ণফুলীর এই পয়েন্টে সড়কসেতু হলে সমস্যা নেই জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘বর্তমানে কালুরঘাটে যে সেতুটা আছে, সেটা অনেক পুরনো। এখন যেহেতু ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন যাচ্ছে, আরেকটা সেতু অবশ্যই প্রয়োজন। বোয়ালখালীবাসীর দাবি আছে, সড়কসহ যেন সেতু হয়। সেটাও হতে পারে, কোনো সমস্যা দেখছি না। কিন্তু কথা একটাই, পিলারের কাছে যে পলি জমা হবে, সেগুলো নিয়মিত অপসারণ করে নেভিগেশন ঠিক রাখতে হবে।’

শনিবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর অভয়মিত্র ঘাটে ‘কর্ণফুলী নদী দখল-দূষণমুক্তসহ অবিলম্বে ক্যাপিটাল ড্রেজিং’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনার আয়োজন করে ‘চ্যানেল আই চট্টগ্রাম অফিস’।

কালুরঘাটে নতুন সেতু শাসনের বিষয়টা সামনে এনে বন্দর চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, ‘ব্রিজ হোক, সমস্যা নেই। এখন তো অনেক ধরনের প্রযুক্তি এসে গেছে। যে প্রযুক্তি ব্যবহার করেই ব্রিজ হোক না কেন, নিচে যে পলি জমা হবে, সেটা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আপনাকে নিতে হবে। ছোট ছোট টেন্ডারের মাধ্যমে সেগুলো অপসারণ করতে হবে। এখন মাটির চাহিদা আছে। বালির দাম সোনার চেয়েও বেশি।’

মন্ত্রী বলেন, কর্ণফুলীর বর্তমান চিত্র ভয়াবহ। এভাবে যদি চলতে থাকে অদূর ভবিষ্যতে এ নদী থাকবে কিনা আমার সন্দেহ আছে। এখন যে অবস্থায় আছে তা আর ক্ষতি করতে দেয়ার সুযোগ নেই।

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, ‘অব্যাহত দখলের পর কর্ণফুলী নদী এখন যে অবস্থায় আছে, আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, এই নদীর আর কোনো ক্ষতি করার সুযোগ কাউকে দেয়া যাবে না। আমি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর আরএস-মূলে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে নদী উদ্ধারের কাজ শুরু করেছিলাম। কিন্তু আইনের প্রতি সম্মান রেখে বলছি, মাঝপথে হাইকোর্টের নির্দেশনার কারণে সব বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় আমি চট্টগ্রাম বন্দরের কাছে প্রত্যাশা করছি যে, এই নদীর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তারা এগিয়ে আসবেন।’

চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়াল অ্যাডমিরাল জুলফিকার আজিজ বলেন, ‘কর্ণফুলী নদীতে এক নম্বর জেটি অর্থাৎ নিচের দিকে নাব্যতা অনেক বেড়েছে। এখন ৯ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ আসছে। কিন্তু উপরের দিকে নাব্যতা কমেছে। আমরা নিয়মিত ড্রেজিং করছি বলেই নাব্যতা বেড়েছে। উপরের দিকে পারছি না, সেখানে অনেক প্রতিবন্ধকতা। সেখানে নদীর তলদেশে মাটি নেই, সব আবর্জনা, পলিথিন। প্রতিদিন টনে টনে বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। আমরাও একমত যে কর্ণফুলী নদীতে নিয়মিত ড্রেজিং করতে হবে, যত খরচই লাগুক। এ বিষয়ে একটি মনিটরিং কমিটি করা যায়। এ কমিটিকে আর্থিক স্বাধীনতা দিতে হবে।

দৈনিক আজাদী পত্রিকার সম্পাদক বলেন, পলিথিন সরকার নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু আসছে কোথা থেকে। পলিথিনের উৎস কারখানা। কারখানায় তালা মারলে হবে না। একেবারে উচ্ছেদ করতে হবে। আমরা আসলে উৎসটা ধরি না।

তিনি বলেন, কর্ণফুলী হচ্ছে বাংলাদেশের ফুসফুস। কর্ণফুলী বাঁচাতে হবে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। সবাই মিলে এটা করব। নিজেদের বাঁচতে হবে। নিজেদের বাঁচাতে হলে পারিপার্শ্বিক সব কিছুতে লক্ষ্য রাখতে হবে। সচেতন হতে হবে। তাহলে দেশ ও জাতি বাঁচবে।

গোলটেবিল আলোচনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন সম্পাদক আলীউর রাহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন চ্যানেল আইয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধান চৌধুরী ফরিদ।

আবু আজাদ/বিএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]