আবরার হত্যায় বিবৃতি : জাতিসংঘ প্রতিনিধিকে তলব

কূটনৈতিক প্রতিবেদক কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:২১ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৯

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার হত্যা নিয়ে বিবৃতি দেয়ায় বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পোকে তলব করে প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, রোববার দুপুরে জাতিসংঘ আবাসিক প্রতিনিধিকে ডেকে আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে জাতিসংঘ ঢাকা অফিসের দেয়া বিবৃতির ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

গত বুধবার দেয়া ওই বিবৃতিতে আবরার হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানায় জাতিসংঘ। পাশাপাশি স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আহ্বান জানানো হয়।

সূত্র জানায়, মিয়া সেপ্পোকে জানানো হয়, জাতিসংঘের বিবৃতিতে মুক্তভাবে নিজের মতপ্রকাশের জন্য বুয়েট ছাত্র আবরারকে হত্যা করা হয়েছে বলে যে মন্তব্য করা হয়েছে যা সঠিক নয়।

তাছাড়া ভারতের সঙ্গে করা চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা হলেও সে বিষয়ে মতপ্রকাশে বাধা দেয়নি সরকার। এমনকি খুন হওয়ার আগে পর্যন্ত আবরারের ফেসবুকে লেখা স্ট্যাটাস সম্পর্কে লিখেছে, অবগত ছিল না সরকার।

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠকের পর বেরিয়ে যাওয়ার সময় এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সেপ্পো সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য করেননি।

রোববার (৬ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে বুয়েটের সাধারণ ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফাহাদকে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলা থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সোমবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সোমবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢামেক ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. মো. সোহেল মাহমুদ বলেন, বাঁশ বা স্ট্যাম্প দিয়ে পেটানো হয়ে থাকতে পারে বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদকে। এর ফলেই রক্তক্ষরণ বা পেইনের (ব্যথা) কারণে ফাহাদের মৃত্যু হয়েছে।

তিনি বলেন, ফাহাদের হাতে, পায়ে ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। আঘাতের ধরন দেখে মনে হয়েছে ভোঁতা কোনো জিনিস যেমন- বাঁশ বা স্ট্যাম্প দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তবে তার মাথায় কোনো আঘাত নেই। কপালে ছোট একটি কাটা চিহ্ন রয়েছে।

এ ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ। মঙ্গলবার গ্রেফতার ছাত্রলীগের ১০ নেতাকর্মীর পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

জেপি/বিএ/জেআইএম