আবরার হত্যা রাষ্ট্রের সব ধরনের অব্যবস্থাপনাকে চিহ্নিত করে

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩২ পিএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৯

‘বিশ্ববিদ্যালয়ে কী হচ্ছে! আবরারকে এভাবে মরতে হলো কেন? এই একটি হত্যাকাণ্ড তো রাষ্ট্রের সব ধরনের অব্যবস্থাপনাকে চিহ্নিত করে।’

বলছিলেন মানবাধিকার নেত্রী সুলতানা কামাল। তিনি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা মানবাধিকার এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন থেকে। দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে তিনি আবরার হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গেও আলোকপাত করেন।

সুলতানা কামাল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের দোহাই দিয়ে ক্ষমতায় গেছে এবং এই দোহাই তারা ন্যায্যভাবে দিতেই পারেন। এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন। এই সরকার সবচেয়ে ভালো সরকার হবে, তা সবার প্রত্যাশা ছিল। অথচ গত দশ বছরে আমরা কী দেখতে পেলাম! আওয়ামী লীগের ছাত্রবাহিনীর হাতেই বহু ছাত্র মারা গেল। তারা নিজেরাও মরছে নিজেদের হাতে। পত্রিকা খুললেই সব দেখতে পাবেন।’

উন্নয়ন-সুশাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের মহাসড়কে যাচ্ছি মূলত কাগজে-কলমের হিসাবে। সাধারণ মানুষ সরকার, রাষ্ট্রের এই অব্যবস্থাপনার কথা জানতে পারছে না। আবার কেউ বললে, সরকার তা গ্রহণ করতে পারছে না। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের চেয়ারপারসন হিসেবে প্রতি বছর দুর্নীতির চিত্র তুল ধরছি। আমরা যখন দুর্নীতির ভয়াবহতা নিয়ে কথা বলি, তখন সরকার বলে যে, আমরা কারও এজেন্ট হয়ে কথা বলছি। বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে বিরোধিতা করছি।’

‘অথচ তারা কেউ একজন সদিচ্ছা দেখায় না যে, আসলে দুর্নীতির চিত্রটা কী? সরকারের অনেকে মনে করছেন, খুব উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু তাদের যখন বলা হচ্ছে আসলে এই এই হচ্ছে, তখন তারা খোঁজ নিতেই পারেন। বাধাটা কোথায়? মূলত তারা ভয় পান। এ কারণেই তারা মেনে নিতে চান না’- যোগ করেন সুলতানা কামাল।

এএসএস/বিএ/জেআইএম