দুদক চেয়ারম্যানের পদত্যাগ তার ব্যক্তিগত ব্যাপার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:০৬ পিএম, ১৪ অক্টোবর ২০১৯

 

দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদকের চেয়ারম্যান পদত্যাগ করবেন কি-না, এটা চেয়ারম্যানের একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার বলে মন্তব্য করেছেন দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। তিনি বলেন, উনি পদত্যাগ করবেন কি-না, সেটা তো আমি জানি না। সেটা একান্ত ওনার ব্যক্তিগত ব্যাপার।

বেসিক ব্যাংকের আবদুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে মামলা না করা প্রসঙ্গে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের সামনের চত্বরে ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের দেয়া বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন দুদক আইনজীবী।

দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে দুদক চেয়ারম্যানকে সরে যাওয়া উচিত- ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস এমপির এমন বক্তব্যের পরে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, চেয়ারম্যান (দুদক) একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থার চেয়ারম্যান। ওনার চেয়ারম্যানশিপ নির্ধারণ করা হয় বাছাই কমিটির মাধ্যমে। সুপ্রিম কোর্টের তিনজন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত হয় বাছাই কমিটি। দুদক চেয়ারম্যান পদত্যাগ করবেন কি-না, এটা তার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার।

খুরশীদ আলম খান আরও বলেন, ‘শেখ ফজলে নূর তাপস সাহেবের বক্তব্যটা আমরা সাধুবাদ জানাই। উনি চাচ্ছেন বেসিক ব্যাংকের চার্জশিট হোক। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে বা একজন নাগরিক হিসেবে একজন সচেতন আইনজীবী হিসেবে উনি চাইতে পরেন। এটা এপ্রিশিয়েট করি। এটা (চার্জশিট) কেন হচ্ছে না?

‘কিছুদিন আগে চেয়ারম্যান সাহেব বলেছিলেন, এখানে চার হাজার কোটি টাকার বিষয়। প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। বাকি অনেক টাকা উদ্ধার হওয়ার পথে। মানিলন্ডারিং মামলার প্রধান বিষয় টাকার উৎস এবং টাকাটা কোথায় গেল সে ব্যাপারটা আইডেন্টিফিকেশন পর্যায়ে আছে। এখন টাকার গন্তব্য যদি বের করা না যায়, তাহলে তো এ চার্জশিট আদালতে প্রশ্নের সম্মুখীন হবে। তার মানে এই না যে অনন্তকাল পর্যন্ত চার্জশিট হবে না। আমি যতটুকু জানি টাকার গন্তব্য ফাইন্ডআউট হলে এটা হয়ে যাবে। এটা এক্সাকলি টাইম বলা ডিফিক্যাল্ট। ৫৬টি মামলা। আরও কিছু হচ্ছে।’

চার্জশিটে আবদুল হাই বাচ্চুর নাম থাকবে কি-না, এমন প্রশ্নে খুরশীদ আলম খান বলেন, উনার সংযুক্তি থাকলে অব্যশই হওয়া উচিত। যদি ক্রেডিবল এভিডেন্স থাকে তাহলে অবশ্যই আসবে।

এর আগে ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস বলেন, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে দুদক চেয়ারম্যানের সরে যাওয়া উচিত।

বেসিক ব্যাংকের আবদুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে মামলা না করা প্রসঙ্গে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের সামনের চত্বরে সাংবাদিকদের কাছে তাপস এমন মন্তব্য করেন।

শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির ঘটনায় শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে মামলা করেনি দুদক। দুদক চেয়ারম্যান কারও প্রভাবে এমনটি করছেন কি-না, আমরা জানি না। কারও প্রভাবে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে দুদক চেয়ারম্যানের পদত্যাগ করা উচিত।

ফজলে নূর তাপস বলেন, 'বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতির মূল ব্যক্তি হলেন তৎকালীন চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চু। যার কারণে সরকার তাকে ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণ করেছে। কিন্তু আজ অবধি বেসিক সংক্রান্ত যতগুলো মামলা হয়েছে তা কর্মচারী-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। চেয়ারম্যানের নামে কোনো মামলা হয়নি। যদিও তার স্বেচ্ছাচারিতা ও একক সিদ্ধান্তে ঋণগুলো ছাড়ের সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

এক প্রশ্নের জবাবে ফজলে নূর তাপস বলেন, দুদক চেয়ারম্যান যদি মনে করেন কোনো প্রভাবের কারণে তিনি ব্যবস্থা নেননি তাহলে তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং সেই কারণে তার পদ থেকে সরে যাওয়া উচিত। তিনি যদি দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হন আর যদি মনে করেন কোনো প্রভাব দ্বারা তিনি প্রভাবিত হননি তাহলে নিশ্চয়ই বাচ্চুর বিরুদ্ধে মামলা করে, গ্রেফতার করে আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করবে দুদক।

তিনি বলেন, বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বাচ্চুকে আসামি করে চার্জশিট দিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনা থাকলেও তা অমান্য করেছে দুদক। কী কারণে দুদক এ কাজ করেছে এটি জাতি জানতে চায়।

বেসিক ব্যাংকে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা জালিয়াতির ঘটনায় ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে ৫৬টি এবং পরের বছর আরও পাঁচটি মামলা করে দুদক। এসব মামলা দায়েরের পর ৪০ মাস পার হলেও এখনও অভিযোগপত্র দেয়নি সংস্থাটি। মামলায় ব্যাংকার ও ঋণগ্রহীতাদের আসামি করা হলেও ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের কাউকেই আসামি করা হয়নি।

বেসিক ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে ব্যাংকটির পরিচালনাপর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুসহ পরিচালনাপর্ষদের সদস্যদের জড়িত থাকার কথা বলা হলেও মামলায় তাদের আসামি করা হয়নি। মামলা হওয়ার পর তদন্ত–পর্যায়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশে আবদুল হাই বাচ্চুসহ পরিচালনাপর্ষদের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেও অভিযোগপত্র এখনও জমা দেয়া হয়নি।

বেসিক ব্যাংকের ঘটনায় করা মামলাগুলোয় ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা অনেক দিন ধরে কারাগারে। ঋণগ্রহীতা কেউ কেউ ব্যবসায়ী। গ্রেফতার হওয়ার পর তারা জামিনে বেরিয়ে দেশের বাইরে চলে গেছেন। কেউ কেউ গ্রেফতার এড়াতে দেশ ছেড়েছেন। যারা এ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত বলে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তাদের সবাই এখন বাইরে আছেন।

এফএইচ/এমএআর/এমএস