নিজের সংস্কৃতি ছাড়া ভেতরের শক্তি বিকাশ করা যায় না

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:১৮ পিএম, ১৮ অক্টোবর ২০১৯

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, ‘আমাদের যদি মানবজাতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হয়, সমানতালে চলতে হয়, তাহলে স্বাভাবিকতা অর্জন করতে হবে। সেই স্বাভাবিক বা ন্যাচারাল হওয়ার একমাত্র পথ হলো নিজের ভাষা, সংস্কৃতি, আত্মপরিচয় নিজের মধ্যে গ্রহণ ও লালন করা। কোনো মেকি বা নকল মানুষ কখনও তার নিজের ভেতরের শক্তি তার বিকাশ করতে পারে না।’

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘জাতীয় ভাষা প্রতিযোগিতা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এই আয়োজনে বাংলা, ইংরেজি ও চীনা ভাষার প্রতিযোগিতা হবে।

মান্নান বলেন, ‘চীনা বোধ হয় পৃথিবীর অর্ধেক সম্পদের মালিক। তাছাড়া ইংরেজি ভাষা অত্যন্ত ক্ষমতাশালী ও পরাক্রমশালী ভাষা। আমাদের মাতৃভাষা বাংলাও একটি বিশাল ভাষা। প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কোটি মানুষ সারা বিশ্বে এই ভাষা ব্যবহার করে। ভাষা ব্যবহারে আমাদের একটা আবেগ আছে। এটা গর্বের বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘সব ভাষাকেই আমরা সম্মান করি। কিন্তু আমাদের মায়ের ভাষা, রক্তের ভাষা বাংলা, আমাদের জন্য এর কোনো বিকল্প নেই।’

মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রসঙ্গ টেনে এম এ মান্নান বলেন, ‘তিনি নিজেকে সাহেব মনে করতেন, নিজের ধর্ম ত্যাগ করেছিলেন। ইংরেজি লিখতেন পাগল হয়ে দিনরাত। চর্চা করতেন, পড়তেন। অত্যন্ত উন্নতমানের ইংরেজি জানতেন তিনি। কিন্তু মাঝ নদীতে গিয়ে তিনি হাবুডবু খেলেন। সেই মাইকেল কান্নাকাটি করে, ইউরোপ-টিউরোপ ঘুরে আবার তিনি কলকাতার সাগরদাড়িতে, বাংলাদেশের যশোরে এসে শান্তি পেয়েছিলেন। তার মানে কী, মায়ের কোলেই আশ্রয়।’

Mannan-1

সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি বলেন, ‘এমন একটা সময়ে এই ভাষা উৎসব হচ্ছে, যখন আমরা একটি রূপান্তরের সময়ে আছি। যখন আমরা বলছি, শুধু মেধাবী প্রযুক্তিবিদের প্রয়োজন নাকি মেধাবী মানুষের প্রয়োজন। আমরা চাই, একটি মেধাবী মানবিক প্রজন্ম। যে প্রজন্ম দেশকে যারা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে, প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। আমরা সর্বত্র প্রতিযোগিতার মধ্যে আছি। আমাদের ভাষার লড়াই ১৯৫২ সাল থেকে শুরু হয়েছে। আজকে এসে আমরা তিনটা ভাষায় (বাংলা, ইংরেজি ও চীনা) লড়াই করছি। এখান থেকে আমরা কী শিখব, এখান থেকে আমরা সেই লড়াইটাই শিখতে চাই, যেটা আমরা নিজের সঙ্গে করি, ভালোর জন্য। সেই লড়াইয়ে আমাদের বুকের মধ্যে রাখব দেশ, আমাদের ভাষা, আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের ইতিহাস ও মাটি-মানুষকে।’

নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাবনা তুলে ধরে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান লায়ন বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। আমি তুলনা করার জন্য বলছি না, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা যেহেতু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, আমরা শিক্ষার্থীদের যেকোনো ধরনের সুযোগ দেয়ার জন্য নিজেদেরকে প্রস্তুত রেখেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় ভাষা প্রতিযোগিতার এই আয়োজনে বাংলা, ইংরেজি ও চীনা ভাষার প্রতিযোগিতা হবে। আয়োজনে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিযোগিরা অংশ নিতে এসেছে। তাদেরকে স্বাগত জানাই।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের মন্ত্রী-কাউন্সিলর ইয়ান হুয়ালং, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিকুল ইসলামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিযোগী ও অভিভাবকরা।

পিডি/এমএসএইচ/পিআর