নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:২৩ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০১৯

নিরাপদ সড়ক দিবসকে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজে লাগানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। পাশাপাশি এই দিবসকে সামাজিক গণজাগরণ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার আহ্বানও জানিয়েছে সংগঠনটি।

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস (২২ অক্টোবর) উপলক্ষে আজ (সোমবার) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘দেশে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ সড়কে প্রাণ দিচ্ছে, আহত হচ্ছে। তাদের সুরক্ষা দিতে দিবসটি অন্যান্য জাতীয় দিবসের ন্যায় গতানুগতিকভাবে একদিন পালন না করে ;- মাসব্যাপী স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে চিত্রাঙ্কন ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা, নিরাপদ সড়ক ব্যবহার সংক্রান্ত আলোচনা সভা, মসজিদ-মন্দির-গির্জায় সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনাসহ দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরলে
এই দিবস উদযাপনের সুফল পাওয়া যাবে।’

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন মতে, সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী গত ৪ বছরে ২১,৩৮৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৯,৩১৫জন নিহত ও ৬৯,৪২৮জন আহত হয়। তবে সংগঠিত দুর্ঘটনার সিংহভাগই সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয় না বলে এই সমিতির অভিমত।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৫ সালে ৬,৫৮১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৮,৬৪২জন নিহত ও ২১,৮৫৫ জন আহত হয়। ২০১৬ সালে ৪,৩১২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬,০৫৫ জন নিহত ও ১৫,৯১৪ জন আহত হয়। ২০১৭ সালে ৪,৯৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭,৩৯৭ জন নিহত ও ১৬,১৯৩ জন আহত হয়। ২০১৮ সালে ৫,৫১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭,২২১ জন নিহত ও ১৫,৪৬৬ জন আহত হয়।

গত ৪ বছরে সংগঠিত সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৩১,০৯৪টি যানবাহন আক্রান্ত হয়েছে। যার মধ্যে ২১.৩৩ শতাংশ বাস, ২১.১৮ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৬.৮৭ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস, ১৪.২৫ শতাংশ অটোরিকশ, ১৮.৩৩ শতাংশ মোটরসাইকেল, ৯.১৮ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৮.৮৩ শতাংশ নছিমন করিমন ও ট্রাক্টর রয়েছে।

সমিতির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বর্তমান সময়ে সড়ক-মহাসড়কে উন্নয়নের ফলে যানবাহণের গতি বেড়েছে, এ সময়ে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং বিপজ্জনক অভারটেকিং বেড়ে যাওয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। আয়তন ও জনসংখ্যার ঘনত্বের তুলনায় বাংলাদেশে যেভাবে ছোট যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে দুর্ঘটনা ও যানজট নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে।

এএস/জেডএ/এমকেএইচ