স্বাধীনতা বিরোধীদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বললেন গণপূর্তমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:২২ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০১৯

স্বাধীনতা বিরোধীদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বললেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। সোমবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে মহান মুক্তিযুদ্ধের সত্য ঘটনা অবলম্বনে কথাসাহিত্যিক মনি হায়দার রচিত উপন্যাস ‘কিংবদন্তির ভাগীরথী’-এর প্রকাশনা উৎসব উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

শ ম রেজাউল করিম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বাঙালি জাতির মৌলিক সত্তা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সত্তা। আমাদের সবার মধ্যে এই সত্তা জাগ্রত হওয়া প্রয়োজন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে আমাদের বিভিন্ন দুর্বলতা রয়েছে। এক্ষেত্রে কিংবদন্তির ভাগীরথী উপন্যাস মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে একটি অসাধারণ প্রয়াস। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যাদের মধ্যে ঘুমিয়ে গেছে, তাদের জাগ্রত করা আমাদের দায়িত্ব।

southeast

তিনি আরও বলেন, সেটা হতে পারে শিল্প, সাহিত্য, সাংবাদিকতা কিংবা রাজনীতির মাধ্যমে। আমরা যে যেখানে আছি সেখান থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগ্রত করার জন্য ভূমিকা রাখতে হবে। কারণ আমাদের অস্তিত্বের উৎস মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। সেই চেতনার বাংলাদেশকে যদি আমরা রক্ষা করতে না পারি, তাহলে ত্রিশ লাখ শহীদ যারা জীবন দিয়েছেন, দুই লাখ মা-বোন যাদের সম্ভ্রম দিতে হয়েছে, সেই মানুষগুলো আমাদেরকে ক্ষমা করবে না। ইতিহাসের দায়মুক্তি হবে না।

মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের ব্যবস্থা করেছিলেন। সে সময় দালাল আইনে ৩৭ হাজার ব্যক্তি গ্রেফতার হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর স্বাধীনতা বিরোধীরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠনের পর যুদ্ধাপরাধের বিচার করে এবং রায় কার্যকর করেছেন বাঙালি জাতিকে ইতিহাসের দায় থেকে মুক্তি দিয়েছেন।

কথাসাহিত্যিক হাসনাত আবদুল হাইয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাবন্ধিক ও গবেষক ড. সরকার আব্দুল মান্নান এবং নাট্যজন মাসুম রেজা।

এইউএ/এমআরএম