অবশেষে নামল বিমানের ‘গলার কাঁটা’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:২১ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০১৯

মিসর থেকে ভাড়ায় আনা ত্রুটিপূর্ণ এয়ারক্রাফট দুটি অবশেষে বিদায় নিয়েছে। প্রথম উড়োজাহাজটি গত ১৬ জুলাই মিসরে পাঠানো হয়। দ্বিতীয় উড়োজাহাজটি আজ বিদায় নিচ্ছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অপারেশন সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বিমানের ‘গলার কাঁটা’ নামে পরিচিত এ দুটি এয়ারক্রাফট নেয়ার সময় অসম চুক্তি করায় ফেরত দিতে বিশাল অংকের অর্থ গুনতে হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হকের নেতৃত্বে মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব ও বর্তমান বিমান এমডি মোকাব্বির হোসেনের চেষ্টায় উড়োজাহাজ দুটি ফেরত দেয়া সম্ভব হয়েছে।

জানা গেছে, বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ দুটি লিজ চুক্তিতে আনা হয়েছিল মিথ্যা তথ্য দিয়ে। যে কারণে লাভের চেয়ে ক্ষতি হয়েছে বেশি। মাসে ১১ কোটি টাকা হারে পাঁচ বছরে ৬৫০ কোটি টাকার ওপর মাশুল গুনতে হয়েছে। দুটি উড়োজাহাজ লিজের নামে হাতি পুষেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ কারণে বছরে বিমানকে গচ্চা দিতে হয়েছে প্রায় ১৩২ কোটি টাকা।

বিমানের পরিকল্পনা শাখা সূত্রে জানা গেছে, উড়োজাহাজটি দীর্ঘদিন পড়েছিল। আজ সকালে উড়োজাহাজটি নিয়ে বিমানের পাইলটরা মিসরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এয়ারক্রাফট দুটি মেনটেনেন্স করতে এ যাবত কোটি কোটি টাকা গচ্চা দিতে হয়েছে বিমানকে

জানা গেছে, অসম চুক্তিতে বলা আছে, ভাড়া নেয়ার সময় উড়োজাহাজ দুটি যে অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল, ফেরত দেয়ার সময় সে অবস্থা করে দিতে হবে। বিমানের পক্ষে যা ছিল অসম্ভব। ফলে কিছুদিন যেতে না যেতেই অচল হয়ে পড়া এয়ারক্রাফট দুটি নিয়ে চরম বিপাকে পড়ে বিমান। বিমানকে লোকসানের বোঝা টানতে হয় বিগত কয়েক বছর।

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ২০১৪ সালের মার্চে পাঁচ বছরের চুক্তিতে ইজিপ্ট এয়ারলাইন্সের কাছ থেকে দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর লিজ নেয় বিমান। এর একটি বিমানের বহরে যুক্ত হয় ওই বছরের মার্চে ও অন্যটি একই বছরের মে মাসে। লিজে আনা বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ দুটির কারণে বিমানের শত শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামীতে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করব আমরা।

আরএম/এমএসএইচ/এমএস