চালের পাশপাশি এবার আমন ধানও কিনবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৩৭ পিএম, ৩১ অক্টোবর ২০১৯

চলতি মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে প্রতি কেজি ২৬ টাকা দরে ৬ লাখ টন আমন ধান কিনবে সরকার। একই সঙ্গে ৩৬ টাকা দরে সাড়ে ৩ লাখ টন চাল ও ৩৫ টাকা কেজি দরে ৫০ হাজার টন আতপ চাল কেনা হবে। আগামী ২০ নভেম্বর থেকে ধান ও ১ ডিসেম্বর থেকে চাল সংগ্রহ শুরু হয়ে তা চলবে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভা শেষে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

আমনে এবারই প্রথম ধান কিনছে সরকার। সরকার আমনে গত বছর ৩৬ টাকা দরে ৬ লাখ টন চাল সংগ্রহ করেছিল।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষকদের প্রতি নজর রেখেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতোপূর্বে আমনে ধান কেনা হয়নি। আমরা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে এবার ৬ লাখ টন ধান সংগ্রহ করব। তিন লাখ ৫০ হাজার টন চাল সংগ্রহ করব মিলারদের কাছ থেকে। ৫০ হাজার টন আতপ চাল মিলারদের কাছ থেকে কেনা হবে।’

তিনি বলেন, ‘ধান কেনা হবে প্রতি কেজি ২৬ টাকা দরে। চাল প্রতি কেজি ৩৬ টাকা ও আতপ চাল ৩৫ টাকা কেজি দরে কেনা হবে।’

আগামী ২০ নভেম্বর থেকে ধান সংগ্রহ শুরু হবে জানিয়ে সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘১ ডিসেম্বর থেকে চাল কেনা শুরু হবে। ১০ নভেম্বরের মধ্যে কৃষি বিভাগ আমাদের প্রান্তিক চাষিদের তালিকা দিয়ে দেবেন। এই তালিকা ইউনিয়ন ওয়েবসাইটে চলে যাবে। সেই তালিকা নিয়ে আমাদের উপজেলা সংগ্রহ কমিটি যাচাই-বাছাই করবে। কৃষকের সংখ্যা বেশি হলে লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হবে।’

এবার প্রতি কেজি আমনে ধানের উৎপাদন খরচ ২১ টাকা ৫৫ পয়সা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে চাল মজুদের পরিমাণ ১২ লাখ ৭৭ হাজার ৪৪৭ টন।’

এসময় কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এবার আমন উৎপাদন এক কোটি ৫৩ লাখের চেয়ে বেশি হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আগে আমনে ধান কেনা হত না মোটেই। এই বছরই প্রথম কেনা হচ্ছে, অনেক বেশি পরিমাণ, ৬ লাখ টন।

তিনি বলেন, ‘প্রকৃত চাষীরা খাদ্য সংগ্রহের সুফল যাতে পায় সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করব। আমনে যাদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে বোরোতে তাদের নাম বাদ যাবে। যাতে বেনিফিট সবাই পায় আস্তে আস্তে। এই নীতিগত সিদ্ধান্তও আজ হয়েছে।’

কৃষক হিসেবে যাদের নাম দেয়া হবে তারা প্রকৃত কৃষক কিনা সেই মনিটরিংটা এবার আরও জোরদার করা হবে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘ধানের আর্দ্রতা মাপার জন্য আমনে প্রত্যেক ইউনিয়নে আমরা একটা করে ময়েশ্চার মিটার দেব।’

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘সারের দাম কমানোর চেষ্টা করছি। উৎপাদন খরচ কমিয়ে কৃষককে প্রণোদনা দেয়ার চেষ্টা সরকার করছে। ডিএপি সারের দাম কমানোর একটা প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয় ও সরকারের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী মহলে পাঠাব আমরা।’

ধান কাটার যন্ত্র কেনার জন্য প্রকল্প নেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কৃষি যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ৪ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে, এই বছর যন্ত্রপাতি আমরা ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছি।’

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সময় ও আওতা বাড়ল

১০ টাকা কেজির চাল বিতরণের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সময় ৫ মাসের পরিবর্তে ৭ মাস করা হয়েছে জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখন বছরের শুরুতে মার্চ, এপ্রিল এবং শেষের দিকে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। এখন মে ও ডিসেম্বরেও ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ করা হবে।’

সাধন চন্দ্র বলেন, ‘জেলেদের ভিজিএফ দেয়া হয়। আরও অনেক জেলে রয়েছে, তাদের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় আনার জন্য প্রস্তাব পাঠাবেন, অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে জেলেদেরও ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেয়া হবে। বিতরণের আওতা বাড়িয়ে গুদাম খালি করে আমরা যাতে কৃষকদের কাছ থেকে আরও বেশি ধান কিনতে পারি, এটাই হল আমাদের মূল লক্ষ্য।’

তিনি বলেন, ‘যে সব গ্রাম পুলিশ আছেন আমরা তাদেরও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেই নির্দেশনাই দিয়েছেন।’

দেশে ৫৬ হাজার গ্রাম পুলিশ রয়েছে বলেও জানান খাদ্যমন্ত্রী।

আরএমএম/এনএফ/জেআইএম