টালমাটাল পোশাকশিল্প, রাস্তায় শ্রমিকরা  

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৫২ পিএম, ০৮ নভেম্বর ২০১৯

 

দেশে একের পর এক বন্ধ হচ্ছে পোশাক কারখানা। চালু থাকা অনেক কারখানার অবস্থাও খারাপ। পোশাক শ্রমিক ছাঁটাই, ঠিকমতো বেতন-ভাতা না দেয়া, নির্যাতন, কালো তালিকা তৈরিসহ পোশাক শিল্পে চলছে নানা ধরনের অস্থিরতা। এ অবস্থায় রাস্তায় নামতে শুরু করেছে পোশাক শ্রমিক ও বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নগুলো।

শুক্রবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কয়েক শ পোশাক শ্রমিক ও শ্রমিক নেতা বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে বিক্ষোভ, পতাকা র‌্যালি ও মানববন্ধন করেছে। রাজধানীর দক্ষিণখানের চৈতী গ্রুপ ও সুপারটেক্স গার্মেন্টে বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুতসহ ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের চাকরিতে পুনর্বহাল করা ও হামলা-হুমকি-নির্যাতন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে গ্রার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন।

Garments-(3)

গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘এই সঙ্কট কাটাতে হলে আমাদেরকে সংগঠিত হতে হবে। লড়াই করতে হবে। এছাড়া আমাদের এই সঙ্কট থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো পথ নেই।’

সংগঠনের আরেক নেতা বলেন, ‘সরকার ও মালিক পক্ষ উভয়ে মিলেই এই চেষ্টা চালিয়েছে যে গার্মেন্ট শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন দেয়া যাবে না। সরকার ও বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতিকে (বিজিএমইএ) উদ্দেশ করে বলতে চাই, আপনারা যদি এই পায়তারা করেন, তার জবাব শ্রমিকরা দেবে।’

Garments-(3)

এদিকে, পোশাক-শ্রমিক ছাঁটাই, নির্যাতন ও কালো তালিকা করে হয়রানি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি।

এছাড়া আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ১০২ ও ১৯০ নম্বর ধারায় অনুস্বাক্ষরের দাবিতে পতাকা র‌্যালি করেছে জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশন।

Garments-(3)

তারা বলছেন, বাংলাদেশ নিম্ন আয় থেকে মধ্যম আয়ের দেশ হতে চলেছে। মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ও গড় আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক। জিডিপি বৃদ্ধির হালে সবচেয়ে বেশি অবদান তৈরি পোশাক শিল্পসহ দেশের শ্রমিকদের। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে, শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইএলও কনভেনশনের ১০২ ও ১৯০ অনুস্বাক্ষর এখনও করেনি সরকার। ফলে পোশাক শিল্পেরসহ সব শ্রমিক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত। যৌন নির্যাতনের শিকারও হচ্ছে নারী পোশাক-শ্রমিকরা।

আইএলও কনভেনশনের এই দুই ধারায় অনুস্বাক্ষর ও নারী পোশাক-শ্রমিকদের যৌন নির্যাতন বন্ধের দাবি জানান তারা।

পিডি/এসআর/এমকেএইচ