বৃষ্টিবিঘ্নিত আবহাওয়ায়ও ব্যস্ততায় দিন কাটছে নগরবাসীর

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:০১ পিএম, ০৯ নভেম্বর ২০১৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টিএসসির বিপরীত দিকে হুড উঠিয়ে বসেছিলেন রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা রিকশাচালক হাশেম মিয়া। শনিবার (৯ নভেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে বৃষ্টি মাথায় যাত্রী নিয়ে রিকশা চালিয়ে ক্লান্ত হয়ে এখানে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। পরিধেয় শার্ট ও সাদা লুঙ্গি বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ায় ঠান্ডায় কাঁপছিলেন তিনি।

ঠান্ডা লাগছে কিনা- এ প্রতিবেদক জানতে চাইলে হাশেম মিয়া বলেন, ‘আমাগো মতো গরিব মাইনষের গরম আর শীত। যে আবহাওয়াই থাকুক না কেন জীবিকার তাগিদে রিকশা নিয়ে রাস্তায় বের হতেই হয়। না হলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।’ তবে তিনি এ মুহূর্তে নিজের কথা ভাবছেন না। বরিশালের বাকেরগঞ্জে বৃ্দ্ধ বাবা-মায়ের কথা ভাবছেন। কারণ তিনি শুনেছেন বুলবুল বরিশালে আঘাত হানবে।

Dhaka-Rain-1

রিকশাচালক হাশেম মিয়ার মতো সাধারণ দরিদ্র মানুষই নন, ধনী ও দরিদ্র নির্বিশেষে ব্যস্ততম এ নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লাখো মানুষ জীবিকার তাগিদে বৃষ্টিবিঘ্নিত আবহাওয়ায়ও রাস্তায় বের হয়েছেন। রাজধানীতে সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। দুপুর ১২টার পর থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কখনও একটু জোরে আবার কখনও ঝিরঝির বৃষ্টি হচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি হলেও রাস্তাঘাটে অসংখ্য মানুষ। বিভিন্ন সড়কে যানজটও চোখে পড়ে।

Dhaka-Rain-1

তবে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব পড়েছে হাসপাতালে। অন্যদিনের চেয়ে আজ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর ভিড় তুলনামূলক কম ছিল। তবে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে প্যাডেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশা, সিএনজি অটোরিকশা ও অ্যাপেচালিত মোটরসাইকেলের চাহিদা বেড়ে গেছে। বৃষ্টিতে ভেজার ভয়ে অনেককেই বেশি ভাড়া দিয়েও গন্তব্যে ছুটতে দেখা গেছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।

Dhaka-Rain-1

এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৪৫ কি. মি. পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ৪৪৫ কি. মি. পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৪০ কি. মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৭৫ কি. মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর/উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে মধ্যে রাত নাগাদ পশ্চিমবঙ্গ-খুলনা উপকূল (সুন্দরবনের কাছ দিয়ে) অতিক্রম করতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় দমকা/ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কি. মি. মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কি. মি., যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৪০ কি. মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ। মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

Dhaka-Rain-1

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এমইউ/এএইচ/পিআর