বুলবুল মোকাবিলায় প্রস্তুত চট্টগ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৭:৫২ পিএম, ০৯ নভেম্বর ২০১৯

প্রবল শক্তি নিয়ে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন সেবাসংস্থা।

শনিবার দিনভর জেলার উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে সতর্কতামূলক মাইকিং করা হয়েছে। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন জাগো নিউজকে জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় চট্টগ্রামে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৪৭৯টি আশ্রয়কেন্দ্র। এছাড়া আরও প্রায় চার হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। মজুত করা হয়েছে শুকনো খাবার। গঠন করা হয়েছে মেডিকেল টিম।

এদিকে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি অন্য সংস্থাগুলোও ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।

ctg-cyclone

নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তায় চট্টগ্রামে ৩টি ও সেন্টমার্টিন্সে ২টি যুদ্ধজাহাজসহ নৌ কন্টিনজেন্ট ও মেডিকেল টিম মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

এছাড়া মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নৌ-বাহিনী ও কোস্টগার্ডের সব জাহাজ নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের কুমিরা ঘাট থেকে সন্দ্বীপ ও হাতিয়ায় নৌ-যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। ‘অ্যালার্ট-৪’ জারি করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে ও কর্নফুলী নদীতে ৯৪টি জাহাজ অবস্থান করছে। এর মধ্যে বড় জাহাজ (মার্চেন্ট শিপ) গুলোকে কুতুবদিয়া ও সেন্টমার্টিন উপকূলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় চলাকালে জাহাজগুলোর ইঞ্জিন চালু রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া লাইটারেজ ও মাছ ধরার ছোট জাহাজগুলোকে কর্ণফুলী নদীর শাহ আমানত সেতুর উজানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

ctg-cyclone

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক জানান, চট্টগ্রাম বন্দরে তিনটি ঘূর্ণিঝড় নিয়ন্ত্রণ খোলা হয়েছে। এর মধ্যে নৌ বিভাগের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বর : ০৩১-৭২৬৯১৬। পরিবহন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বর : ০৩১-২৫১০৮৭৮ এবং বন্দর সচিবের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বর : ০৩১-২৫১০৮৬৯।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল এর সম্ভ্যাব্য আঘাত ও ক্ষয়-ক্ষতি মোকাবিলায় গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় সার্কিট হাউজে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভিন্ন সেবাসংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে প্রায় ৮ লাখ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন। এর মধ্যে ৪৭৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে পারবেন ৫ লাখ মানুষ। এছাড়া দুই হাজার ২৬৯টি প্রাথমিক এবং এক হাজার ২৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আরও ৩ লক্ষ লোক আশ্রয় নিতে পারবেন।

এছাড়া ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৩৪৯ মেট্রিক টন চাল, ৬৮১ বান্ডিল ঢেউটিন এবং ৫০০টি তাবু মজুত রাখা হয়েছে। যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ফোন নম্বর: ০৩১-৬১১৫৪৫, ০১৭০০-৭১৬৬৯১ এ যোগাযোগ করা যাবে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির জানান, চট্টগ্রামে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পক্ষ থেকে ২৮৪টি মেডিকেল টিম গঠন করেছে। সিভিল সার্জনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এছাড়া সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ১৯৪টি অ্যাম্বুলেন্স এবং পর্যাপ্ত স্যালাইন ও ওষুধ প্রস্তুত রাখা হযেছে।

ctg-cyclone

এদিকে, সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নিজস্ব জনবল ছাড়াও প্রস্তুত রেখেছে স্বেচ্ছাসেবকদের।

জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) এর ছয় হাজার ৬৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক ও রেড ক্রিসেন্টের ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকও প্রস্তুত আছেন উপকূলীয় এলাকায়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার পিস পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং এক হাজার ৪০০ পিস হাইজিন কিডস মজুতের খবর পাওয়া গেছে। সংগ্রহ করা হচ্ছে আরও এক লাখ পিস পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট। সচল রাখা হয়েছে টিউবওয়েলগুলো।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) উপকূলীয় এলাকা এবং পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থানরত জনসাধারণের মাঝে সচেতনতার জন্য মাইকিং শুরু করেছে। সম্ভাব্য দুর্যোগপরবর্তী সময়ের জন্য শুকনো খাবার, পর্যাপ্ত সুপেয় পানির ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা সেবাদানের জন্য মেডিকেল টিম ও পর্যাপ্ত ওষুধপত্র প্রস্তুত রেখেছে চসিক।

নগরবাসীকে যে কোনো জরুরি সেবা দেয়ার জন্য কন্ট্রোল রুম খুলেছে চসিক। কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বরগুলো হলো- ০৩১-৬৩০৭৩৯, ০৩১-৬৩৩৬৪৯।

এছাড়া চট্টগ্রাম নগর পুলিশ তাদের সদর দফতরে জরুরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলেছে। এছাড়া দুর্যোগকালীন জরুরি সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সিএমপির থানার অফিসার ইনচার্জসহ সব স্তরের পুলিশ সদস্যদের সিএমপি কমিশনারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে নগরবাসীকে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বরে (০১৬৭৬-১২৩৪৫৬, ০১৬৭৯-১২৩৪৫৬, ০৩১-৬৩৯০২২ এবং ০৩১-৬৩০৩৫২) যোগাযোগ করতে সিএমপির পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।

আবু আজাদ/জেএইচ/পিআর