নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৪৪ পিএম, ১০ নভেম্বর ২০১৯

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল পর্যবেক্ষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলার প্রস্তুতি ও পরবর্তী করণীয় বিষয়ে বারবার নির্দেশনা দিয়েছেন, নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। আর যে বিএনপি আমাদের সরকারের প্রস্তুতিকে অপর্যাপ্ত বলছে, তাদের নেত্রীর প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, তাদের সময় ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর যখন মানুষের লাশ পানিতে ভাসছে, সমস্ত চট্টগ্রামে লাশের গন্ধ, তখন নওয়াজ শরিফ আসায় বেগম খালেদা জিয়া দিনে সাতটি শাড়ি বদল করেছেন।

রোববার (১০ নভেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কার্যালয়ে ১০ নভেম্বর শহীদ নূর হোসেন দিবস উপলক্ষে শহীদ নূর হোসেন সংসদ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. হাছান বলেন, বিএনপি বলেছে- ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি নাকি যথেষ্ট নয়। অথচ ব্যাপক ও পর্যাপ্ত প্রস্তুতির ফলে আমাদের প্রাণ ও সম্পদ উভয়ই ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। আমি তাদের বলব, নিজের চেহারাটা আয়নায় দেখতে। কারণ তাদের সময়ে ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ও ব্যাপক সম্পদের ক্ষতি হয়েছিল। বিমান বাহিনীর ৩৫টিরও বেশি যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল শুধু ব্যবস্থাপনার কারণে, কারণ বিমান তো উড়িয়েই অন্যত্র নেয়া যেত। বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারগুলো চলে এসেছিল রাস্তায়। যখন মানুষের লাশ পানিতে ভাসছে, সমস্ত চট্টগ্রামে লাশের গন্ধ, তখন নওয়াজ শরিফ আসায় বেগম খালেদা জিয়া একদিনে সাতটি শাড়ি বদল করেছেন।

এদেশের মানুষের প্রতি বঙ্গবন্ধুকন্যার গভীর মমতার কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যার রক্তধমনীতে জাতির পিতার রক্তস্রোত প্রবাহমান, তিনি বারবার মৃত্যু উপত্যকা থেকে ফিরে এসে দেশ ও মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন, মেহনতী মানুষের জীবনের উন্নয়ন ঘটিয়েছেন। সে কারণেই শেখ হাসিনার অপর নাম গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর দেশ ও জাতির উন্নয়ন।

মন্ত্রী বলেন, নূর হোসেনের রক্ত বৃথা যায়নি। নূর হোসেনসহ সকল শহীদের রক্তে আমাদের গণতন্ত্র আজ সুপ্রতিষ্ঠিত। নব্বইয়ের ১০ নভেম্বরের সেই দিন শুধু নূর হোসেন নয়, টার্গেট ছিলেন শেখ হাসিনাও।

এ সময় ড. হাছান মাহমুদ সবাইকে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা জানান। শহীদ নূর হোসেন দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি তছলিম আহম্মেদের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে নূরুল আমিন রুহুল এমপি, প্রধান বক্তা হিসেবে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, বক্তা হিসেবে শহীদ নূর হোসেনের বড় ভাই মোহাম্মদ আলী হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আকতার হোসেন প্রমুখ সভায় নূর হোসেনের স্মৃতিচারণ করেন।

এইউএ/বিএ/এমকেএইচ