মিরপুরে বিশাল জশনে জুলুস, শান্তি সমাবেশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪:৩০ পিএম, ১০ নভেম্বর ২০১৯

ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে রাজধানীর মিরপুরে বিশাল জশনে জুলুস (শোভাযাত্রা বা মিছিল) করেছে নবীপ্রেমী জনতা। কালেমা খচিত বিভিন্ন ফেস্টুন, ব্যানার, প্লে-কার্ড, জাতীয় ও সংগঠনের পতাকা হাতে ধর্মীয় এই শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।

মিরপুর-১ দারুস-সালাম রোড থেকে জশনে জুলুস শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক শান্তি সমাবেশ।

মহানবীর (সা.) দুনিয়ায় শুভাগমন দিবস ১২ রবিউল আউয়ালে আজ মিরপুরে আন্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার উদ্যোগে ও মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের ইমাম হযরত শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানীর (মা.জি.আ.) নেতৃতে এই মিছিল বা জশনে জুলুস বের হয়।

শান্তি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী বলেন, মানবজাতিসহ সমগ্র সৃষ্টি জগতের মাঝে আজ অফুরান আনন্দের হিল্লোল বয়ে যাচ্ছে। কেননা, ১২ রবিউল আউয়ালের এই দিনে পুরো জগতকে আলোকিত করে তশরিফ আনেন মানবজাতির মুক্তির দিশারি হযরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি যখন দুনিয়ায় আগমন করেন তখন ছিল তমসাচ্ছন্ন তথা আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগ। আরবের গোত্রে গোত্রে যুদ্ধ-বিগ্রহ লেগেই থাকতো। ওই সময়ে কন্যা সন্তানকে অভিশাপ মনে করে জীবন্ত কবর দেয়া হতো। নারী জাতির কোনো মর্যাদাই ছিল না। নারীরা ছিল ভোগ-বিলাসিতার পণ্য। মহানবীর (সা.) এসবের অবসান ঘটিয়ে নারী জাতিকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। শুধু তাই নয়, রাষ্ট্র ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় তিনি মদিনার সনদ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করেন।

julush-2

তিনি বলেন, শান্তি-সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণই ছিল মহানবীর (সা.) অনুপম আদর্শ। তার জীবনাদর্শ অনুসরণ এবং যথাযথ স্মরণের মাধ্যমে আমরা জাগতিক জীবনে শান্তি এবং পরকালীন অনন্ত জীবনেও মুক্তির দিশা পেতে পারি।

শান্তি সমাবেশের উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, দেশকে জঙ্গিবাদের মাধ্যমে সংকটের মধ্যে ফেলার প্রচেষ্টা ছিল। কিন্তু হক্কানি আলেমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। আলেমরা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করেছেন। আমি শুকরিয়া আদায় করছি ঘূর্ণিঝড় থেকে আমরা রক্ষা পেয়েছি। আমি এই শান্তি সমাবেশে আসতে পেরে আনন্দিত।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি শাহজাদা সৈয়দ মাশুক-এ-মইনুদ্দীন, শাহজাদা সৈয়দ হাসনাইন-এ-মইনুদ্দীন, পার্লামেন্ট অব ওয়ার্ল্ড সুফীজের সাংগঠনিক সম্পাদক ড. আহমদ তিজানী বিন ওমর বক্তব্য দেন।

এইচএস/জেডএ/পিআর