রোহিঙ্গা নির্যাতন : তদন্তের অনুমতি দিল আইসিসি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:২০ এএম, ১৫ নভেম্বর ২০১৯

রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশ আসা এবং তাদের ওপর নিপীড়ন তদন্তের অনুমতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)।

প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারকরা এ অনুমোদন দিয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) আইসিসির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নেদারল্যান্ডের হেগে আইসিসির প্রাক-বিচারিক আদালত-৩ এক ঐতিহাসিক রায়ে ওই অনুমতি দেন। এর ফলে আইসিসির কৌঁসুলি তদন্ত শুরুর সবুজ সংকেত পেলেন। আইসিসির বিচারিক প্রক্রিয়া বেশ দীর্ঘ হলেও রোহিঙ্গাদের ন্যায় বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় আশা দেখা দিয়েছে।

আইসিসির পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘এটা বিশ্বাস করার যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে যে, রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপকভাবে এবং পদ্ধতিগতভাবে সহিংস কর্মকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে, যা মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত পাড়ির পেছনে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়ে থাকতে পারে। চেম্বার তাই বাংলাদেশ-মিয়ানমারের পরিস্থিতি তদন্তের অনুমোদন দিয়েছে।’

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর চালানো নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তের অনুমোদনের জন্য চলতি বছরের ৪ জুলাই কৌঁসুলিদের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছিল। জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রাথমিক তদন্ত শেষে পূর্ণ তদন্ত শুরুর জন্য আবেদন করেন আইসিসির কৌঁসুলি ফাতৌ বেনসুদা। এছাড়া নির্যাতনের শিকার লোকদের কাছ থেকে হাজারও অনুরোধ পেয়েছে আদালত। তার ভিত্তিতে তদন্তের অনুমোদন দেয় আইসিসি।

২০১৭ সালের ২৩ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে বিদ্রোহী গ্রুপের হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তাদের বেশ কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়। হামলাকারীদের আশ্রয় দেয়ার অজুহাতে ২৪ আগস্ট রাতে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর স্মরণকালের ভয়াবহ বর্বরতা শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্রপন্থী মগরা (বৌদ্ধ ধর্মালম্বীরা)। চলে গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ বিভৎস সব নির্যাতন। এতে প্রাণ রক্ষায় দলে দলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা।

মানবিকতার কারণে বাংলাদেশ সরকার কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের সীমান্তপথ খুলে দিয়ে নিপীড়িত প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়। সীমান্তের দুই উপজেলার প্রায় ৮ হাজার একর পাহাড়ি বনভূমিতে আশ্রয়স্থল তৈরি করে ৩৩টি ক্যাম্পে রাখা হয়েছে নতুন পুরনো প্রায় সোয়া ১১ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে।

জেপি/এমএসএইচ/এমএস