বিমানে পেঁয়াজ আমদানি একদিন পেছাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:২৭ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৯

কার্গো বিমানে আমদানি করা পেঁয়াজের প্রথম চালান পৌঁছানোর সময় এক দিন পিছিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি জানান, বিমানে আমদানি করা পেঁয়াজের প্রথম চালান আজকে আসার কথা ছিল। কিন্তু সেটা সম্ভব হচ্ছে না। সেটা আগামীকাল (বুধবার) আসবে।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) বিকেল ৪ টায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে বিপদে আছি। তবে বাজারে পেঁয়াজের দাম অনেকটাই কমেছে। পেঁয়াজ লোডিংয়ে সমস্যা হওয়ায় ২৪ ঘণ্টা পিছিয়েছে।

তিনি বলেন, বিমানে আনা পেঁয়াজ টিসিবির মাধ্যমে বিক্রি হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার ভর্তুকি দেবে। কাল পেঁয়াজবাহী প্লেন দেশে পৌছাঁলেই চার-পাঁচশ ট্রাক ভরে সারাদেশে ছড়িয়ে দেব, যাতে সব জায়গায় দামটা কমে যায়।

টিপু মুনশি বলেন, সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে আকাশ ও সমুদ্র পথে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেছে। আকাশ পথে আমদানি করা হচ্ছে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ। মিসর থেকে আমদানি পেঁয়াজ সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজযোগে ঢাকার পথে রয়েছে। পেঁয়াজবাহী প্রথম সৌদি এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ এসভি ৩৮০২ যোগে মিসরের কায়রো থেকে জেদ্দা হয়ে ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে ২০ নভেম্বর গভীর রাতে।

তিনি বলেন, এরপর প্রতিদিন প্যাসেঞ্জার ও কার্গো ফ্ল্যাইটে পেঁয়াজ অব্যাহতভাবে ঢাকায় আসবে। এ ছাড়া, সমুদ্র পথে ১২ হাজার টন পেঁয়াজ দেশে পৌঁছাতে শুরু করেছে। দেশীয় পেঁয়াজ বাজারে উঠেছে। পেঁয়াজের মূল্যও দ্রুতগতিতে কমছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজ আমদানি বৃদ্ধির জন্য সরকার শুরু থেকেই আমদানিকারকদের মাধ্যমে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ আমদানির প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করলে এবং মিয়ানমার পেঁয়াজের মূল্য কয়েকগুণ বৃদ্ধি করলে বিকল্প হিসেবে মিসর ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করা হয়।

তিনি বলেন, ‘সমদ্রপথে পেঁয়াজ আসবে, সময় বেশি লাগার কারণে এখন তা আকাশ পথে আমদানি করা হচ্ছে। দেশে দৈনিক প্রায় ৬ হাজার টন পেঁয়াজের প্রয়োজন হয়। দেশের মজুত এবং আমদানি পেয়াঁজ মিলে তা পর্যাপ্ত হবে। এরই মধ্যে দেশীয় পেঁয়াজ পর্যাপ্ত বাজারে আসবে। সামনে কোনো সমস্যা হবে না।

টিপু মুনশি বলেন, আমাদের প্রতি বছর ৮ থেকে ১০ লাখ টন পেঁয়াজ আদানি করতে হয়। এর বেশির ভাগই প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত থেকে আমদানি করা হয়। এখন আমদানিনির্ভর না থেকে চাহিদার পুরো পেঁয়াজই দেশে উৎপাদনের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ জন্য কৃষকদের ভর্তুকি ও উৎসাহ দেয়া হবে। এ ছাড়া, পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে পেঁয়াজ সারাবছর সংরক্ষণ করা যায়। মৌসুমের সময় পেঁয়াজ আমদানির কারণে যাতে দেশের কোনো কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে সময় পেঁয়াজ আমদানির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। কৃষকরা যাতে পেঁয়াজের উপযুক্ত মূল্য পান, তা নিশ্চিত করা হবে।

এমইউএইচ/জেডএ/এমএস