‘মায়ের কবরে সুখ-দুখের কথা জানিয়ে মনে শান্তি পাই’

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:০০ পিএম, ২২ নভেম্বর ২০১৯

সবুজ ঘাসে আবৃত কবরের ওপর খুব যত্ন করে পানি ঢালছিলেন পুরান ঢাকার হোসেনি দালানের বাসিন্দা এক যুবক। অনেকক্ষণ সময় নিয়ে ১০ লিটারের গ্যালন ভর্তি পানি ছিটানোর কাজ শেষ করে কবরের নামফলকে জমে থাকা ধুলাবালি রুমাল দিয়ে পরিষ্কার করেন।

এরপর ঝরে পড়া পাতা কুড়িয়ে ফেলে দেন। সবশেষে দোয়াদরুদ পড়ে দুহাত তুলে মোনাজাত শেষ করে কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বিড় বিড় করে কিছু বলতে থাকেন।

Grave-(7).jpg

এ দৃশ্যপট আজ (শুক্রবার) বিকেল ৩টায় আজিমপুর পুরাতন কবরস্থানে জনৈকা বেলী বেগমের কবরের সামনে। কবরটির নাম ফলকে লেখা, “আসলাম ও স্বপনের ‘মা’ বেলি বেগম, পিতা মৃত লাল মিয়া, মৃত্যু ১৯-০৪-২০১৯। ৫৫/৩ হোসেনি দালান রোড।”

ওই যুবকের নাম আসলাম। তিনি জানান, চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল তার মা বেলী বেগম মারা যান। মায়ের মৃত্যুর পর প্রতি শুক্রবার দুপুর ১২টার সময় তিনি আজিমপুর কবরস্থানে হাজির হন। কবরস্থানের দক্ষিণ গেটের প্রয়াত মেয়র হানিফের নামে নির্মিত মসজিদে জুমার নামাজ পড়েন। নামাজ শেষে মায়ের কবর জিয়ারত করতে আসেন। কবরে পানি ঢালা, আবর্জনা পরিষ্কার, দোয়াদরুদ পাঠ ও মোনাজাত শেষে সারা সপ্তাহে জমে থাকা সুখ-দুখের কথা বলেন। আসলাম বলেন, ‘যদিও মা শুনতে পান না, কিন্তু তার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলে মনে শান্তি পাই।’

Grave-(7).jpg

শুধু আসলাম নন, তার মতো হাজারো নারী, পুরুষ প্রতি শুক্রবার আজিমপুর কবরস্থানে ছুটে আসেন। কারও মা কারও বাবা, কারও ভাইবোন আবার কারও দাদা-দাদি ও নানা-নানিসহ আত্মীয়-স্বজনদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

আজ শুক্রবার কবরস্থানে দেখা গেল, বিপুলসংখ্যক মানুষের ভিড়। বিভিন্ন কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কেউ চোখের জল ফেলে দোয়াদরুদ পড়ছেন, কেউ নিজের হাতে কবর সংস্কার করছেন আবার কেউবা সিটি কর্পোরেশনের কর্মচারীদের দিয়ে সংস্কার করাচ্ছেন।

Grave-(7).jpg

কবরস্থানের ভেতর অঝোরে এক যুবককে কাঁদতে দেখা গেল। যুবকের পাশে দাঁড়ানো তিন সাড়ে তিন বছরের একটি ক্ষুদে শিশুকে হতবাক হয়ে যুবকের দিকে বার বার তাকাতে দেখা যায়। ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দা ওই যুবক জানান, গত রমজান মাসে তার মা মারা গেছেন। ছেলেকে তার দাদির কবর দেখাতে নিয়ে এসেছেন। ছোট্ট শিশুকে কবর ছুঁয়ে সালাম করতে দেখে নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি ওই যুবক।

এমইউ/এসআর/এমএস