ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় না লিখেই উত্তীর্ণ!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৪৬ এএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯

কিছু না লিখেও উত্তীর্ণ হওয়া যায় বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) ড্রাইভিং লাইসেন্সের লিখিত পরীক্ষায়। রাজধানীর ইকুরিয়া বিআরটিএ কার্যালয়ে এসব অনিয়ম ধরা পড়ে।

এক শ্রেণির দালালের সহায়তায় বিআরটিএ হরহামেশাই হচ্ছে এমন অনিয়ম। গতকাল মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানেও এর সত্যতা মিলেছে।

জানা যায়, বিআরটিএ আয়োজিত লিখিত পরীক্ষা হয় উন্মুক্ত পরীক্ষা কেন্দ্রে, পরীক্ষার খাতায় প্রাপ্ত নম্বর উল্লেখ না করে উত্তীর্ণ বা ফেল ঘোষণা করা হয়। আর ফলাফল প্রকাশিত হয় অতি অল্প সময়ে।

দুদকের হটলাইন-১০৬ এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংস্থার প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মানসী বিশ্বাস ও উপ-সহকারী পরিচালক শিহাব সালামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি টিম অভিযান নামে।

দুদক জানায়, অভিযানকালে এনফোর্সমেন্ট টিম ড্রাইভিং লাইসেন্সের লিখিত পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম পান এবং দুর্নীতির কিছু সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্র চিহ্নিত করেন। এর মধ্যে উন্মুক্ত পরীক্ষা কেন্দ্র, পরীক্ষার খাতায় প্রাপ্ত নম্বর উল্লেখ না করা, অতি অল্প সময়ে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা।

এ সময় সেবা প্রত্যাশীরা হয়রানির কথা অভিযান পরিচালনাকারী টিমের পক্ষ থেকে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়। স্বল্প সময়ে পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের ফলে মূল্যায়িত উত্তরপত্রের মধ্যে পাঁচটিতে নম্বরের গড়মিল লক্ষ্য করা যায়। যদিও পরবর্তীতে তা সংশোধন করা হয়।

দুদক আরও জানায়, অভিযান পরিচালনাকারী দলের কাছে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ জানান, দালালদের সহায়তায় পরীক্ষায় কিছু না লিখেও উত্তীর্ণ হওয়া যায়।

অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, অভিযান পরিচালনাকারী দল পৌঁছানোর আগেই প্রায় ১০০ জনের পরীক্ষা নেয়া হয়। অবশিষ্ট ১৩০ জনের পরীক্ষা দুদক টিমের সম্মুখে গ্রহণ করা হয়। দুটি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথম ব্যাচে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র একজন অনুত্তীর্ণ হন এবং দ্বিতীয় ব্যাচের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ১৫-এর অধিক অনুত্তীর্ণ হন।

অভিযানকালে প্রাপ্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির ক্ষেত্রসমূহ উল্লেখ করে অভিযানকারী দল কমিশনে সুপারিশমালাসহ প্রতিবেদন দাখিল করবে বলে দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান।

এফএইচ/জেএইচ/জেআইএম