ডিএপি সার কেজিতে কমছে ৯ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:৩৬ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ডিলার এবং কৃষক পর্যায়ে ডিএপি সারের মূল্য প্রতিকেজি ৯ টাকা করে কমানো হচ্ছে। এতে কৃষক পর্যায়ে ডিএপি সারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২৫ টাকা থেকে কমে হবে ১৬ টাকা। ডিলার পর্যায়ে প্রতি ২৩ টাকা থেকে কমে হবে ১৪ টাকা। শিগগিরই এটি কার্যকর হবে বলে জানান তিনি।

বুধবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, এতে অতিরিক্ত ৮০০ কোটি ভর্তুকি দিতে হবে সরকারের। তবে এ জন্য সরকারের কাছ থেকে নতুন করে টাকা নিতে হবে না। প্রতিবছর সরকার কৃষি কাজে সারের জন্য বরাদ্দ দিয়ে থাকে ৯ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু খরচ হয় ৭ হাজার কোটি টাকা। বাকি ২ হাজার কোটি টাকা থেকেই এটা মেটানো সম্ভব।

মন্ত্রী বলেন, ইউরিয়া সারের ব্যবহার হ্রাস ও ডিএপি সারের ব্যবহার বৃদ্ধিসহ কৃষকদের উৎপাদন খরচ লাঘবের উদ্দেশে একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হলে উক্ত প্রস্তাব পর্যালোচনাপূর্বক বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকারের প্রধানমন্ত্রী সারের মূল্য হ্রাসের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন মোতাবেক সব পর্যায়ে (অর্থাৎ ডিলার এবং কৃষক পর্যায়ে) ডিএপি সারের মূল্য প্রতিকেজি ৯ টাকা হ্রাস করেছেন। এর ফলে কৃষক পর্যায়ে ডিএপি সারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য প্রতিকেজি ২৫ টাকা থেকে কমিয়ে ১৬ টাকা এবং ডিলার পর্যায়ে প্রতিকেজি ২৩ টাকা হতে কমিয়ে প্রতিকেজি ১৪ টাকা নির্ধারণ করেছেন ।

তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় কৃষকদের উৎপাদন খরচ হ্রাস, সুষম সার ব্যবহারের কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণ, কৃষিক্ষেত্রে গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ পরিবেশ বান্ধব টেকসই খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে সরকার ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সারের মূল্য পুনরায় হ্রাসের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

মন্ত্রী বলেন, ডিএপি সারে ১৮ শতাংশ নাইট্রোজেন (অ্যামোনিয়াম) এবং টিএসপি সারের সমপরিমাণ ফসফেট ( অর্থাৎ ৪৬ শতাংশ P205) রয়েছে। ফলে এই সার প্রয়োগে ইউরিয়া ও টিএসপি উভয় সারের সুফল পাওয়া যায়। ফলে ইউরিয়া ও টিএসপি সারের ব্যবহার হ্রাস পেয়ে অর্থ ও শ্রম উভয়ের সাশ্রয় হয় । ডিএপি সারের মূল্য হ্রাসের কৃষকদের উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

গত দশ বছরে সারের দাম এক টাকাও বাড়েনি জানিয়ে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বর্তমান সরকার ২০০৮ সালে ক্ষমতা গ্রহণের সময় নন-ইউরিয়া সারের মূল্য অস্বাভাবিক বেশি থাকায় কৃষকের পক্ষে সার ব্যবহার করে ফসল ফলানো কষ্টসাধ্য ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার দফায় দফায় কমিয়েছে। ২০০৯ সালে টিএসপি সারের দাম ছিল প্রতিকেজি ৮০ টাকা, ২০১৪ সালে এটি কমিয়ে করা হয় ২২ টাকা। ২০০৯ সালে এমওপি
সারের দাম ছিল ৭০ টাকা, ২০১৪ সালে এটি কমিয়ে করা হয় ১৫ টাকা। এছাড়া ২০০৯ সালে ডিএপির দাম ছিল ৯০ টাকা, ২০১৪ সালে এটি কমিয়ে করা হয় ২৫ টাকা।

চলতি মৌসুমেই শিগগিরই ডিএপি সারের দাম ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে। এটির অনুমোদন হয়ে গেছে। এখন শুধু সার্কুলার জারি করা বাকি।

তিনি আরও বলেন, কৃষি লাভজনক করতে আরও উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে ফসলের উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য ধানকাটা যন্ত্রসহ অন্যান্য যন্ত্র কম দামে সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষি সেক্টরকে একটি লাভজনক খাত হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার।

এমইউএইচ/জেএইচ/এমকেএইচ