আলু রফতানিতে প্রণোদনার সময় বাড়ানো উচিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩০ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ এবং ভারত, পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে আলু রফতানিতে আরও দুই বছর প্রণোদনা দেয়া উচিত বলে মনে করেন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক।

তিনি বলেন, ‘রফতানি উপযোগী আলুর জন্য কন্ট্রাক্ট ফারমিং ও টিস্যু কালচারে যেতে হবে। এ শিল্পকে লাভবান করতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এখন থেকে শুধু বীজ উৎপাদন নয়, আগামীতে আলু রফতানিও করবে।’

বুধবার (৪ ডিসেম্বর) কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আলু রফতানির বিষয়ে সার্বিক পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় আলু উৎপাদনকারী, রফতানিকারক ও আলুবীজ উৎপাদনকারীরা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংস্থার প্রধানগণ, কৃষি বিজ্ঞানী ও গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।

আলু রফতানিতে প্রণোদনার বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে আলু রফতানিতে ২০ শতাংশ প্রণোদনা দেয়া হয়। এ বিষয়ে আমি গভীরভাবে চিন্তা করছি। তবে এ নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করব। আমি মনে করি, আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে যাওয়ার জন্য এবং ভারত, পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য প্রণোদনা এক-দুই বছর বাড়িয়ে দেয়া উচিত। বাজারে প্রবেশের পর তা আস্তে আস্তে কমিয়ে আনা হবে। এছাড়া আলু রফতানির উদ্দেশ্যে আমদানিকারকদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ডিসেম্বরের মধ্যে একটি অ্যাক্রিডেটেড ল্যাব স্থাপন করবে। বারি এখন পর্যন্ত ৯১টি আলুর জাত অবমুক্ত করেছে। আলু প্রসেসিং করে রফতানির উদ্যোগ নিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ও চিপসের জন্য আলুর জাত আবাদ করতে হবে। আলু প্রক্রিয়াজাত করে মূল্য সংযোজন করে রফতানির মাধ্যমে এ শিল্পকে লাভবান করতে হবে। এজন্য আমাদের রফতানি উপযোগী আলু পেতে হলে কন্ট্রাক্ট ফারমিংয়ে যেতে হবে। রফতানি উপযোগী আলুর বীজ অবমুক্তির সময়সীমা তুলে নিয়েছে সরকার। এখন যে কেউ রফতানি উপযোগী আলুর জাত আবাদ করতে পারবে। তবে রোগ বালাইয়ের ক্ষেত্রে গবেষণা প্রতিষ্ঠান তদারকি করবে। যেকোনো মূল্যে আলু রফতানি করতে হবে। এ বিষয়ে সকলে মিলে সম্মিলিতভাবে কাজ করে শিল্পটিকে লাভজনক করতে হবে। আলুর উৎপাদন বছরে ৫.১৯ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, রাশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় আলু রফতানির জন্য যে পর্যবেক্ষণ রয়েছে তা পূরণ করে রফতানির ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আরও নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি করতে হবে। এছাড়া অন্যান্য যেসব দেশে আলু রফতানি হচ্ছে সেসব দেশে কী জাতের আলুর চাহিদা রয়েছে তা জানতে হবে এবং আমাদের দেশে আবাদ করতে হবে।’

কোল্ড স্টোরেজ সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের ভালো কোল্ড স্টোরেজ নেই। যা দিয়ে আলুর গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ রাখা যায়। কোল্ড স্টোরেজ করার জন্য কেউ যদি এগিয়ে আসে তাহলে সরকার তাদের দেখবে। যাতে দীর্ঘসময় সংরক্ষণ করে বাজারে আলুর সরবরাহ ঠিক রাখা যায়। বীজ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আমরা টিস্যু কালচারের ওপর গুরুত্ব দেব। এজন্য বিএডিসিকে বলব, তারা যেন টিস্যু কালচার করে। যাতে রোগ বালাইয়ের প্রাদুর্ভাব কমবে। বিএডিসি কন্ট্রাক্ট গ্রোয়ার তৈরি করে জি টু জি ভিত্তিতে আলু রফতানি করতে পারে। আমরা একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিএডিসি শুধু বীজ উৎপাদন করবে না তারা আগামীতে আলু রফতানিও করবে।’

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘এ বছর আমাদের আলু উৎপাদন হয়েছে এক কোটি নয় লাখ টন। আমাদের বাৎসরিক চাহিদা ৭০/৮০ লাখ টন। সে হিসাবে আমাদের উদ্বৃত্ত থাকে ৩০ লাখ টন। এ উদ্বৃত্ত আলু কীভাবে বাজারজাত করতে পারি এবং যারা কৃষক বা উৎপাদনকারী তারা যাতে ভালো দাম পায় সেটার নিশ্চয়তা আমাদের দিতে হবে। আমরা বলি, তৈরি পোশাকমুখী আমাদের রফতানি। সেটাকে আমাদের বহুমুখীকরণ করতে হবে। বহুমুখীকরণ করতে হলে কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাত ও মূল্য সংযোজন করলে কৃষকরা অনেক লাভবান হবে। এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো- সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ। এজন্য আমাদের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করতে হবে।’

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আলু নিয়ে আমাদের অনেক আলোচনা হয়েছে। কিন্তু আমরা এগাতে পারিনি। বরং আমাদের আলু রফতানি কমে গেছে। এজন্য আলু মৌসুমের শুরুতে আমাদের কী কী পদক্ষেপ নেয়া দরকার সেজন্য মতবিনিময়ে বসেছি। আমরা যেকোনো প্রকার আলু রফতানিযোগ্য হলে তা চাষিপর্যায়ে নিয়ে তাড়াতাড়ি উৎপাদন করে রফতানির উদ্যোগ নিয়েছি। এছাড়া অনেক প্রাইভেট ফার্ম বিদেশ থেকে অনেক জাতের আলু নিয়ে এসেছে। সেগুলো বিএডিসিকে দেয়া হয়েছে, তারা এ বছর মাঠে উৎপাদন করে দেখবে যে, কোনো সমস্যা যেমন- রোগবালাই, পোকা-মাকড়ের আক্রমণ হয় কি-না। একই সঙ্গে এর উৎপাদনশীলতা কত ও রফতানি করা যাবে কি-না, সেটা দেখা হবে। পাশাপাশি আমাদের পটেটো সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে তারা আলুর বিভিন্ন দিক নিয়ে গবেষণা করছে। সে গবেষণা তারা অব্যাহত রাখবে এবং রফতানিযোগ্য আলুর জাত তারা আমাদের দেবে।’

এমইউএইচ/এমএআর/পিআর