২০২০ সালে হজে যাবেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৯১ জন

মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল
মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৭:০৫ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯

আগামী বছর, অর্থাৎ ২০২০ সালের হজ চুক্তিতে বাংলাদেশি হজযাত্রীর কোটা আরও দশ হাজার বাড়ানো হয়েছে। নতুন করে হজযাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে আগামী বছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৯১ জন নারী-পুরুষ ও শিশু পবিত্র হজ পালনের সুযোগ পাবেন।

সৌদি আরবের স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মক্কায় সৌদি ওমরাহ ও হজ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সফররত ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে যৌথ হজ চুক্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহর ব্যক্তিগত সহকারী নাজমুল হক সৈকত এ তথ্য জানিয়েছেন। হজযাত্রীর কোটা বৃদ্ধি ছাড়াও যৌথ হজ চুক্তিতে হজ ব্যবস্থাপনাকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে বেশকিছু গুরত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, সিদ্ধান্ত নেয়া গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে- সৌদি আরবের বদলে শতভাগ ইমিগ্রেশন ঢাকায় (চট্টগ্রাম ও সিলেটের যাত্রী ছাড়া) সম্পন্ন, ঢাকা থেকে সরাসরি মদিনায় ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধি, হজ এজেন্সিগুলোর জন্য এআইটিএ সনদ থাকার ওপর শর্তারোপ না করা, সৌদি সরকার কর্তৃক প্রত্যেক হজযাত্রীর ইনস্যুরেন্স কভারেজ নিশ্চিতকরণ (স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, সড়ক দুর্ঘটনাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে) উন্নত পরিবহন সুবিধা বৃদ্ধি, মিনায় দ্বিতল খাট না রাখা ও ফিরতি হাজীদের লাগেজ দ্রুত পাঠানোর ব্যবস্থা থাকা।

Abdullah-2

আগামী বছরের পবিত্র হজ চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ থেকে হজ ফ্লাইট ২৫ জুন থেকে শুরুর কথা রয়েছে।

২০২০ সালের হজ চুক্তির প্রথম বৈঠক

সৌদি আরবের স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌদি প্রতিনিধি দলের সদস্যদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সৌদির হজ ও উমরা প্রতিমন্ত্রী ডক্টর আব্দুল ফাত্তাহ বিন সোলায়মান মাশাত তাদের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

বৈঠকে যেসব প্রস্তাব দেয়া হয় তা হলো : হজযাত্রীর কোটা বাড়ানো, রুট টু মক্কা ইনিসিয়েটিভের আওতায় শতভাগ হজযাত্রীর ইমিগ্রেশন বাংলাদেশে করা এবং হজ শেষে দেশে ফেরার সময় জেদ্দা ও মদিনা এয়ারপোর্টে হাজিদের ইমিগ্রেশন সহজ করা, হাজিরা যাতে ৪২ দিনের পরিবর্তে ৩০ দিনের কম সময়ে দেশে ফিরতে পারেন, সে ব্যবস্থা গ্রহণ, ভিসা প্রসেসিং সহজ করা, খাওয়া-থাকাসহ সৌদি আরবে বাংলাদেশি হাজিদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো, কালো তালিকাভুক্ত বেসরকারি এজেন্সির তালিকা দ্রুত প্রকাশ করা, হাজিদের জন্য বাধ্যতামূলক খাবার সরবরাহের প্রথা বন্ধ করা এবং মিনায় উন্নতমানের বাংলাদেশি খাদ্য পরিবেশন ও উন্নতমানের আবাসনের ব্যবস্থা করা, হজের সময় বাংলাদেশে আইন লঙ্ঘন করে সৌদি এয়ারলাইন্সের টিকেট বিক্রির স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।

Hajj-2.jpg

হাজি পরিবহনে বাস সার্ভিস উন্নত করা এবং বাংলাদেশি হাজিদের জন্য ট্রেন পরিবহন সার্ভিস বাড়ানোর জন্য ২০২০ সালের হজ চুক্তির বৈঠকে এ প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন বাংলাদেশের ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্যদের মধ্যে এ সময় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনিছুর রহমান, সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসি, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মিজানুর রহমান, কাউন্সিলর হজ মুহম্মদ মাকসুদুর রহমান, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবিএম আমিনুল্লাহ নুরী, হজ পরিচালক (আশকোনা হজ অফিস, ঢাকা) ও হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন আব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাৎ হোসাইন তাসলিমসহ ৯ জন সদস্য বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

পরবর্তীতে সৌদির স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটায় সৌদি হজ এবং ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ সালেহ বিন তাহের বেনতেন ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহর উপস্থিতিতে হজ চুক্তি সম্পাদিত হয়।

এমইউ/এমএসএইচ/এমএস