‘প্রথম এক হাজার দিন শিশুর জীবন গঠনের স্বর্ণ সময়’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৫১ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯

শিশুর জীবনের জন্য প্রথম এক হাজার দিন বা তিন বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা শিশুর জীবনের স্বর্ণ সময় বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা।

বুধবার (৪ ডিসেম্বর) ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ের হোটেল মেলিয়ায় ৪-৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওনাল আরলি চাইল্ড হুড ডেভেলপমেন্ট কনফারেন্স- ২০১৯’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সভায় এ কথা বলেন তিনি।

ভিয়েতনামের উপ-প্রধানমন্ত্রী ভু ডুক ড্যাম এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওনাল নেটওয়ার্ক ফর আরলি চাইল্ড হুড (আরনেক) ও ভিয়েতনামের মিনিস্ট্রি অব লেবার, ইনভ্যালিডস অ্যান্ড সোশ্যাল ওয়েলফেয়ারের (মলিসা) যৌথ আয়োজনে তিন দিনব্যাপী এ কনফারেন্সের উদ্বোধন করেন। এবার কনফারেন্সের প্রতিপাদ্য ‘সম্মিলিত কাজের মাধ্যমে শিশুর বিকাশ ও পরিবেশ উন্নয়ন।’

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথম এক হাজার দিনে শিশুর ৮০ ভাগ বুদ্ধির বিকাশ হয়। শিশুর প্রারম্ভিক জীবনের জন্য এক টাকা বিনিয়োগ করলে সেটা পরিণত বয়সে ১৩ গুণ রিটার্ন দেয়। বাংলাদেশ সরকার শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশে ২০১৩ সালে শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশের সমন্বিত নীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে।’

ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, ‘বাংলাদেশ শিশু অধিকার সনদ ১৯৮৯ এর স্বাক্ষরকারী প্রথম ২২ দেশের মধ্যে একটি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিশুর অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের ১৫ বছর পূর্বে শিশু আইন ১৯৭৪ প্রণয়ন করে।’

দেশের ১৫টি মন্ত্রণালয় শিশুকেন্দ্রিক বাজেট বাস্তবায়ন করছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে, যা গর্ভাবস্থায় মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত এবং শিশুর জীবনের প্রথম এক হাজার দিনের পরিপূর্ণ বিকাশে সাহায্য করবে।’

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের অধিকাংশ নারী ও শিশু, যারা নিজ দেশে নির্যাতনের স্বীকার হয়ে ও মানবেতর অবস্থায় শরণার্থী ক্যাম্পে অবস্থান করছে। এসব শিশুর নিরাপদ জীবন ও তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে কনফারেন্সে উপস্থিত এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।’

আরএমএম/এএইচ/এমএস