খালেদার জন্য এত মায়া কান্না কেন : প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:২৫ পিএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯
ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য এত মায়া কান্না কেন? তার নির্দেশে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা হলো। তার হুকুমে কত মায়ের কোল খালি হয়েছে, কত বোন বিধবা হয়েছে, কত বোন আগুনে পুড়ে বিকৃত চেহারা হয়েছে, সেটা লোকেরা ভুলে যায় কেন? যারা মায়া কান্না করে তাদের আগুনে পোড়া মানুষের চেহারাটা একটু দেখে আসা উচিত।’

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে জাতীয় কমিটির সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়াকে ‘সন্ত্রাস-দুর্নীতির গডমাদার’ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯১ সালে বিএনপি যখন সরকারে আসে, তখন আমেরিকায় খালেদা জিয়ার নিক্যাপ রিপ্লেস করা হয়, অপারেশন হয়। পরবর্তী সময়ে আবার সৌদি আরবে করা হয়। তিনি যখন বিদেশে শপিং মলে শপিং করতেন, হুইল চেয়ারে বসে শপিং করতেন। সে চেয়ার তার দলের নেতা মোসাদ্দেক আলী ফালু ঠেলতেন আর তিনি শপিং করতেন। এমনকি হজের সময়ও ফালুকে খালেদা জিয়ার হুইল চেয়ার ঠেলতে দেখা গেছে। কাজেই বিএনপি চেয়ারপারসনের হুইল চেয়ারে বসা তো নতুন কিছু না। সেটা বহুযুগ ধরে জাতি দেখে আসছে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘ভোট চুরি, মানুষ হত্যা, আগুন দিয়ে পোড়ানো, দুর্নীতি, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় আইভী রহমানসহ মানুষ হত্যা, অর্থাৎ জিয়া যেমন খুনি ছিলেন, খালেদা জিয়াও আরেক খুনি, তার ছেলেও খুনি। এই পরিবারটাই খুনের পরিবার। মানুষ খুন করা, দুর্নীতি করা, অর্থ আত্মসাৎ করা ছাড়া আর কিছুই জানে না তারা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরেই দেশের মানুষের উন্নতি হয়েছে। আওয়ামী লীগ আসার আগে যদি এতই উন্নতি হয়েছে, তাহলে দারিদ্রের হার কমেনি কেন? প্রবৃদ্ধির হার বাড়েনি কেন? মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি হয়নি কেন? একমাত্র আওয়ামী লীগ যখন সরকারে এসেছে তখন এসব হয়েছে। আমরা ৮ দশমিক ১৩ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পেরেছি। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রামে-গঞ্জে মা-বোন থেকে শুরু করে প্রত্যেকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। দেশ সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’

জাতীয় কমিটি সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দলের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আবুল মাল আবদুল মুহিত, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, কাজী জাফরউল্যাহ, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খানসহ জাতীয় কমিটি ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যরা।

প্রসঙ্গত, প্রত্যেক সাংগঠনিক জেলা থেকে একজন করে প্রতিনিধি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, দলের সভাপতি মনোনীত ২১ জন সদস্য ও উপর্যুক্তভাবে নির্বাচিত ও মনোনীত সদস্যদের নিয়ে আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটি গঠিত। জাতীয় কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা ৮১ জন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ সদস্য, ৭৮ জন সাংগঠনিক জেলা থেকে এবং ২১ জন সভাপতি মনোনীত সদস্য মিলিয়ে মোট ১৮০ জন।

এফএইচএস/এমএসএইচ/পিআর