যাত্রীদের ফুল দিলেন রেলমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৫৭ এএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯

রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশনের ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে যাত্রীসহ পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার অপেক্ষায়। ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার নির্ধারিত সময় সকাল ১০টা। তার ঠিক আগে প্ল্যাটফর্মে এসে উপস্থিত হলেন রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন।

এ সময় তিনি ট্রেনের বগির জানালার পাশের যাত্রীদের হাতে রজনীগন্ধা ফুলের স্টিক তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। যাত্রীদের কাছে জানতে চান রেলওয়ের সেবা বিষয়ক সমস্যার কথা। যাত্রীরাও মন্ত্রীকে পেয়ে একের পর এক অভিযোগ জানাতে থাকেন।

এমন চিত্রটি বৃহস্পতিবার সকালে কমলাপুর রেল স্টেশনের। গতকাল ৪ ডিসেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রেলসেবা সপ্তাহ উপলক্ষে কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শনে আসেন মন্ত্রী।

Train-2

স্টেশনের ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষমান একতা ট্রেনের যাত্রী হাবিবুর রহমান মন্ত্রীকে পেয়ে অভিযোগ জানিয়ে বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী আমাদের অনেক ট্রেনই নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যেতে পারে না। ট্রেনের সময় ঠিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুন ‘

আরেক যাত্রী সাব্বির আহমেদ মন্ত্রীকে বলেন, ‘অনেক ট্রেনের টয়লেটের খারাপ অবস্থা থাকে, ছিটকিনি, বদনা এসব পাওয়া যায় না। রেলের এসব সেবা আরও বাড়ানো উচিত।

একইভাবে আরেক যাত্রী অভিযোগ জানিয়ে বলেন, ‘ইদানিং প্রায় ট্রেনেই ছেড়ে যেতে এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে। এছাড়া এখন যেহেতু সবাই ইন্টারনেট ব্যবহার করে, তাই অনলাইনে টিকিট পাওয়া আরও সহজ। তবে সংখ্যা বাড়ানো উচিত।’

Train-2

স্টেশন পরিদর্শন শেষে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘আমরা যাত্রীদের এখনও পরিপূর্ণ সেবা দিতে পারছি না। অনেক ট্রেনই বিভিন্ন সময় বিলম্ব হচ্ছে, দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব কিছু সমস্যা মোকাবিলা করে আমরা রেলসেবা নিশ্চিত করতে চাই। আমাদের ঢাকা চট্টগ্রাম রুটে ডাবল লাইন করার উদ্যোগ নিয়েছি। এছাড়া বঙ্গবন্ধু রেলসেতুর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এসব হয়ে গেলে আর ট্রেনের বিলম্ব থাকবে না বলে আশা করা যায়।’

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, রেলে ভ্রমণকারী যাত্রীদের উন্নত সেবা দেয়া নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত ৪ ডিসেম্বর থেকে রেলওয়ে সেবা ও নিরাপত্তা সপ্তাহ কার্যক্রমে গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়া সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে পূর্বাঞ্চলে সাতটি ট্রান্সপোর্ট টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিম স্টেশনগুলো ঘুরে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলবেন। সেবা সপ্তাহ শেষে তারা একটি প্রতিবেদন পেশ করবেন। সে প্রতিবেদন অনুযায়ী সেবা কার্যক্রম কীভাবে আরও বাড়ানো যায় সে বিষয়েও নজর দেয়া হবে।

এএস/এমএসএইচ/জেআইএম