নগরায়ণে বছরে ৬৫ হাজার হেক্টর কৃষি জমি কমছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৪৫ পিএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯

নগরায়ণ ও শিল্পায়নের ফলে বছরে প্রায় ৬৫ হাজার হেক্টর কৃষি জমি কমছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘তাই আমাদের অল্প জমিতে অধিক ফসল ফলাতে হবে এবং মাটির স্বাস্থ্যের প্রতি অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।’

শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের অডিটরিয়ামে কৃষিতত্ত্ব সমিতির ৩৫তম বার্ষিক সম্মেলনে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের কৃষক ও কৃষিকে মর্মে মর্মে উপলব্ধি করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই তো কৃষিকে লাভজনক করতে কৃষি উৎপাদন খরচ কমাতে পঞ্চমবারের মতো সারের দাম কমালেন। তার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের কৃষিতে বিপ্লব সাধিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘জনবহুল এ দেশে মাত্র ৮ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে আবাদ করে এখন খাদ্যে উদ্বৃত্তের দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে। এসব সম্ভব হয়েছে কৃষিবিদদের যথাযথ দায়িত্ব পালন এবং আমাদের মেহনতি কৃষক ভাই, সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রীর কৃষির প্রতি দরদের ফলে।’

‘স্বাধীনতার পর ১৯৭১-৭২ সালে আমাদের খাদ্য উৎপাদন ছিল ১১ মিলিয়ন টন, যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৭-১৮ সালে উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৩৬২ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন টন।’

আমাদের কৃষিতে নানাবিধ সমস্যা রয়েছে জানিয়ে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘কৃষি শ্রমিক কমে যাওয়া, জমির উর্বরতা এবং পানি প্রাপ্যতা হ্রাস পাচ্ছে। এর পরেও আমাদের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষির এই উৎপাদনশীলতাকে টেকসই করতে হলে কৃষির প্রক্রিয়াজাত, বাণিজ্যিকীকরণ ও রফতানিতে যেতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমদানিনির্ভর ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করে আমদানি কমিয়ে আনতে হবে। দেশে তৈল বীজ ও ডালের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। আগামীতে ভুট্টার উৎপাদন ৬০ থেকে ৭০ লাখ টন করতে হবে। কারণ, ভুট্টা থেকে তেল উৎপাদন করা যায়।’

বাংলাদেশ এগ্রোনমি সোসাইটির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইআরডির সদস্য ও সিনিয়র সচিব মো. সামসুল ইসলাম, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ওয়াইস কবীর। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের মহাসচিব মো. ওমর আলী।

আরএমএম/জেডএ/জেআইএম