সংবাদ সম্মেলন ডেকেও এলেন না তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:১৬ পিএম, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯

সংবাদ সম্মেলন ডেকেও অনুপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বোববার (৮ ডিসেম্বর) দুপুর ১টায় ষষ্ঠ ইইউ-বাংলাদেশ বিসনেস ক্লাইমেট ডায়ালগ শেষে সংবাদ সম্মেলন করার কথা থাকলেও উপস্থিত ছিলেন না তিনি।

দুপুর ১টায় সংবাদ সম্মেলনের নির্ধারিত সময় থাকলেও ২টার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের জানানো হয় মন্ত্রী বা বাণিজ্য সচিব কেউই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে পারছেন না।

এছাড়া রোববার (৮ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় আসন্ন রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যর মজুত, সরবরাহ, আমদানি, মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখা নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভাও বাতিল করা হয়। সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ উপস্থিত থাকার কথা ছিল।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইইউ-বাংলাদেশ বিসনেস ক্লাইমেট ডায়ালগ শুরুর কিছু সময় পরই অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে তৈরি পোশাক খাতে নগদ সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে এক বৈঠকে অংশ নেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হকও ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

তবে দুপুর ২টায় সংবাদ সম্মেলনে আসেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব তপন কান্তি ঘোষ। তিনি বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বাংলাদেশ বিসনেস ক্লাইমেট ডায়ালগ শুরু হলেও জরুরি কাজ থাকায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি থাকতে পারেননি। সভায় ইইউ রাষ্ট্রদূত রেনেসি তেরিংকসহ আট দেশের রাষ্ট্রদূত এবং ব্যবসা খাতের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বিসনেস ক্লাইমেট ডায়ালগ নিয়ে অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে জানিয়ে তপন কান্তি বলেন, ডায়ালগ একটি চলমান প্রক্রিয়া, অদূর ভবিষ্যতে বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হবে।

এদিকে পোশাক খাতের রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি নিজেও পোশাক খাতের ব্যবসায়ী। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসের রফতানি আয়ের চিত্র পর্যালোচনা করে বাণিজ্যমন্ত্রী এক চিঠিতে অর্থমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছর শেষে আয়ের প্রবৃদ্ধি গত অর্থবছরের চেয়েও কমতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্থমন্ত্রীকে পাশে চান তিনি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অর্থমন্ত্রীর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

উল্লেখ্য, পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির পর বার বার সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন টিপু মুনশি। গত সেপ্টেম্বর থেকেই পেঁয়াজের ঝাঁজে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। একই সঙ্গে রাজধানীর বাজারে গত এক মাসে ১৮টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। তাই প্রেস বিফ্রিংয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যর মূল্য নিয়ে প্রশ্নের প্রস্তুতি ছিল সাংবাদিকদের।

এ বিষয়ে জানাতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মো. আব্দুল লতিফ বকসী জানান, বেলা ১১টায় ডায়ালগ শুরুর পরপরই অর্থ মন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠকে যোগ দেন মন্ত্রী ও সচিব। তাই নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে পারেননি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলাম বলেন, গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে অর্থমন্ত্রীর দফতরে বাণিজ্যমন্ত্রী ও সচিবকে নিয়ে বৈঠক হয়। তবে কী নিয়ে অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী বৈঠক করেছেন তা জানাতে পারেননি তিনি।

এদিকে গত ১৯ নভেম্বর সচিবালয়ে পেঁয়াজ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পেঁয়াজের দাম নাগালের মধ্যে আনতে নানা উদ্যোগের কথা জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, এটা নিয়ে ‘খুব বিপদে’ আছি।

পেঁয়াজে লাগাম দিতে না পারায় বিভিন্ন মহল থেকে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির পদত্যাগের দাবি ওঠে। এ প্রেক্ষিতে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে টিপু মুনশি বলেন, তার পদত্যাগে যদি পেঁয়াজের দাম কমে তাহলে এক সেকেন্ডও সময় নেব না।

এমইউএইচ/এএইচ/জেআইএম