পুলিশের সহযোগিতায় ঘরে ফিরলেন বৃদ্ধা মা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:০৭ পিএম, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯

সন্তানদের সঙ্গেই থাকতেন বৃদ্ধা মা আম্বিয়া খাতুন। বছর পাঁচেক আগে আকস্মিকভাবে পড়ে ডান হাত ভেঙে যায় তার। হারিয়ে ফেলেন চলাফেরার শক্তি। হয়ে পড়েন ভারসাম্যহীন। এরপর সন্তানদের কাছে অচ্ছুত হন মা আম্বিয়া। ২০১৮ সালে এক নাতনি অজ্ঞাত পরিচয়ে মিরপুরের পাইকপাড়ার চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ারে রেখে যান।

বৃদ্ধা এই মায়ের মন তার পরিবারের সদস্যদের কাছে যাওয়ার জন্য আকুল হয়ে আছে, মৃত্যুর আগে দেখে যেতে চান প্রিয় সন্তানদের মুখ। কিন্তু সন্তানদের মন যে মায়ের জন্য কাঁদে না। কেয়ার সেন্টারে বৃদ্ধাকে রেখে যাওয়ার সময় একটি নম্বর দিয়েছিলেন অজ্ঞাত পরিচয়ধারী। পরে ওই নম্বরে ফোন করে বৃদ্ধাকে নিয়ে যেতে বলা হলে অপর পাশ থেকে জানানো হয়, ‘মা মারা গেলে বলবেন লাশ নিতে যাব’।

সম্প্রতি একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে এ নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে পুলিশ সদর দফতরের। বিষয়টি অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সদরের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স শাখার পক্ষ থেকে কামরাঙ্গীরচর থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং ওই বৃদ্ধাকে যথাসম্ভব সহযোগিতার জন্য ওসিকে অনুরোধ করা হয়।

mother

এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দফতরের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস শাখার এআইজি সোহেল রানা বলেন, আমাদের মানবিক আহ্বানে সাড়া দিয়ে কামরাঙ্গীরচর থানার ওসি এবিএম মশিউর রহমান ওই বৃদ্ধার আত্মীয়-স্বজনদের খোঁজ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু নাম-ঠিকানা না থাকায় ওসি মশিউর প্রথমে মিরপুর পাইকপাড়ায় বৃদ্ধাশ্রমটি খুঁজে বের করেন। সেখানকার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন সমাদ্দারের সঙ্গে কথা বলে বৃদ্ধার কোনো আত্মীয়ের নাম-ঠিকানা জানতে চান। কিন্তু তাদের কাছে সেই তথ্য না থাকায় দিতে পারেননি। পরে মিল্টন সমাদ্দারের সঙ্গে কথা বলে ওসি মশিউর হুমকি দেয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর সেই হুমকি দেয়া নম্বরের সূত্র ধরে তিনটি মোবাইল নম্বর পাওয়া যায়।

পরে সেই সূত্র ধরে নাগরিক ডাটাবেজের সাহায্যে বৃদ্ধার ছেলে আলাউদ্দিনের ঠিকানা সংগ্রহ করে তার সঙ্গে কথা বলা হয়। তাকে কাউন্সিলিং করা হলে তিনি তার মাকে বৃদ্ধাশ্রম থেকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হন। তখন ওসি মশিউরসহ আলাউদ্দিন ও তার পরিজন মিলে চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ারে যান। এরপর বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ বৃদ্ধাকে তার পুত্র, পুত্রবধূ ও নাতনির কাছে হস্তান্তর করে। এভাবেই পুলিশের উদ্যোগে বৃদ্ধাশ্রম থেকে পরিবারে ঠাঁই হলো বৃদ্ধার।

জেইউ/বিএ/পিআর