স্বামীকে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীর আত্মহত্যা

ঢামেক প্রতিবেদক
ঢামেক প্রতিবেদক ঢামেক প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৪৮ পিএম, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

বছরখানেক আগে বিয়ে হয়েছিল। তিনি ছিলেন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। বাসার জন্য খাট কেনা নিয়ে ঝগড়া হয় স্বামীর সাথে। সেই ঝগড়া নিয়ে রাতে ঘুমানোর পর সকালে স্বামীকে নাস্তাও বানিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু স্বামী কর্মস্থলে যেতেই তার ফোনে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়ে আত্মহত্যা করেছেন হাবিবা আক্তার (২০) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী।

রোববার (৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কাটাসুরের ২ নম্বর রোডের ৪১ নম্বর বাড়ির ষষ্ঠ তলার বাসা থেকে হাবিবার গলায় ফাঁস দেয়া ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।

হাবিবা রাজশাহী জেলার শাহমখদুম থানার মধ্য নওদাপাড়ার মো. ইকরাম আলীর মেয়ে। তার স্বামীর নাম মো. আকাশ আলী। তিনি একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন।

আকাশ আলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার স্ত্রী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। বাসায় খাট কেনা নিয়ে আমার সাথে তার একটু ঝগড়া হচ্ছিল। আমি বলেছি এখন আমার কাছে টাকা নেই। আগামী মাসে খাট কিনে দেব। এই মাসে একটি ড্রেসিং টেবিল ও একটি আলমারি কিনেছি। শনিবার (৭ ডিসেম্বর) রাতে এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। পরে দুজনেই রাতে খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি।’

‘রোববার (৮ ডিসেম্বর) সকালে আমাকে রুটি বানিয়ে দেয় ও। আমি খেয়ে অফিসে চলে যাই। অফিসে ঢোকার সাথে সাথে আমার ফোনে একটি মেসেজ আসে। মেসেজ দেখে আমি ফোন দিই, কিন্তু ও কল রিসিভ করে না। পরে আমি একটি মেসেজ দিই, তাতেও কোনো উত্তর আসে না। আমি আবার কল দিলে ফোন বন্ধ পাই। তখন আমার মনে সন্দেহ হলে দ্রুত বাসায় চলে আসি। এসে কলিংবেল বাজিয়ে ডাকাডাকি করলেও দরজা খুলছিল না। পরে পাশের বাসার সবাইকে নিয়ে দরজা ভেঙে ফেলি। ঢুকে দেখি ড্রয়িং রুমে ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলছে হাবিবা। পরে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাকে নামিয়ে সাথে সাথে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসি। সেখান থেকে তাকে নিকটস্থ হৃদরোগ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাবিবাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

হাবিবার বড় ভাই ফরিদুর জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা দুই ভাই ও এক বোন। হাবিবা সবার ছোট। বছরখানেক হলো বিয়ে হয়েছে। আমাকে কয়েক দিন ধরে ফোন করছিল বাসায় আসার জন্য। আমি বলেছি মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) আসবো। শুনেছি আমার বোনের সাথে খাট কেনা নিয়ে আকাশের সামান্য ঝগড়া হয়েছে। গতকাল (রোববার) ফোন পেয়ে এসে দেখি আমার বোন আর নেই।’

হাবিবার মামা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বছরখানেক আগে আমরাই দেখে-শুনে ভাগনিকে বিয়ে দিলাম। আর এসে দেখতে হলো তার নিথর দেহ।’

মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মিজানুর ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘রোববার বিকেল ৫টায় আমরা খবর পেয়ে হৃদরোগ হাসপাতাল থেকে লাশের সুরতহাল তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠাই। প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পারি স্বামীর সাথে খাট কেনা নিয়ে কথাকাটাকাটি হয় হাবিবা আক্তারের। পরে সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা (মামলা নং-০৭) দায়ের করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার (৯ ডিসেম্বর) বিকেলে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

এইচএ/জেআইএম