ড্রিমলাইনার আনতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন ৪৫ জন!

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৪৩ এএম, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯

বোয়িং থেকে কেনা ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ‘সোনার তরী’ আনতে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিশাল বহর। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পিএস, পিআরও, বিমানের পিআরওসহ সবমিলিয়ে এই বহরের সদস্য সংখ্যা ৪৫ জন। তবে প্রতিমন্ত্রী যাচ্ছেন না।

বিমান সূত্রে জানা গেছে, এটি যান্ত্রিক পরিবহন হওয়ার কারণে প্রকৌশল দল ছাড়া অন্য কেউ নতুন উড়োজাহাজের খুঁটিনাটি সবকিছু বুঝে আনতে পারবে না। কারিগরি সবকিছু বুঝে আনতে কারিগরি দল যেতেই হবে। তাই একটি টেকনিক্যাল টিম সিয়াটলে যাচ্ছেন।

বিমানের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রয়োজন নেই। তারপরেও এ ধরনের বেশকিছু সদস্য সিয়াটলে যাওয়ার দলে যুক্ত হয়েছেন।’ তিনি বলেন, এটি বিমানের খরচের তালিকাই শুধু দীর্ঘ করবে। এতবড় একটি বহরের সদস্যরা ৭-৮ দিন সিয়াটলের পাঁচতারকা মানের হোটেল থাকবেন। সেখানে বোয়িংয়ের কারখানা পরিদর্শন ছাড়াও সফরকারী সদস্যরা ঘোরাফেরা করবেন। তাছাড়া নিউইয়র্ক যাওয়ার টিকিটের দামও চড়া।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, এয়ারলাইন্স লোকসানে থাকলেও ঢাকা থেকে উড়োজাহাজে ওঠার পর এই লট বহরের সদস্যদের সব ধরনের খরচই হবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে। যদিও সম্প্রতি বিমানের পরিচালনা পর্ষদে ব্যয় সংকোচন নীতি অনুমোদিত হয়েছে। ওই ব্যয় সংকোচন নীতি বোর্ডের সদস্যরাই অনুমোদন দিয়েছিলেন। আর এখন তারাই ব্যয়বহুল সফরে সিয়াটলে যাচ্ছেন।

‘সোনার তরী’ আনতে বিমানের প্রকৌশল শাখার ৯ জন প্রকৌশলী ছাড়াও এই দলে বৈমানিক রয়েছেন ৯ জন, কেবিন ক্রু ১০ জনসহ বেশ কিছু কর্মকর্তা। যাদের মধ্যে কয়েকজনের সেখানে কোনো কাজ না থাকলেও তারা ‘পিকনিক’ করতে যাচ্ছেন বলে রসিকতা করছেন অনেকে।

একটি উড়োজাহাজ আনতে বিমানের বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে সিয়াটলে ৪৫ জন কর্মকর্তা যাওয়ার বিষয়টিকে বড় ধরনের ব্যয় বলে আখ্যায়িত করেছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক পরিচালনা পর্ষদ সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, বিমানের ব্যয় সংকোচন নীতি অবলম্বন করা উচিত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক এয়ার মার্শাল ইনামুল বারী বলেন, উড়োজাহাজ আনতে যাওয়া অন্যান্য সময়ের বহরগুলো পর্যালোচনা করে এবারের বহর সাজানো হয়েছে। বহরে অপ্রয়োজনীয় কর্মকর্তাদের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রসঙ্গত, সেপ্টেম্বর মাসের ১৭ তারিখ চতুর্থ ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৮ ‘রাজহংস’ উদ্বোধনের পর থেকে আলোচনায় আসে-বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে আরও দুটি বোয়িং যুক্ত হচ্ছে। এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই দুটি বোয়িং কেনার আগ্রহ দেখান। পরে জানা যায়, আরও বড় আকৃতির বোয়িংয়ের ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার কিনতে যাচ্ছে বিমান। এরপর মাসখানেক ধরে বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে বিমান দর-কষাকষি করে।

বিমান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার বর্তমান বাজারমূল্যের অর্ধেক দামে, অর্থাৎ ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কমে কেনা হয়েছে। ডিসেম্বরেই এই দুটি উড়োজাহাজ বিমানবহরে চলে আসবে।

দরদাম ঠিক হওয়ার পর উড়োজাহাজ দুটি নামকরণের কার্যক্রম চলে। প্রায় ৪০টি নামের একটি তালিকা করা হয়। বিমান সূত্রে জানা গেছে, দুটি নাম পছন্দ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একটির নাম ‘সোনার তরী’, অন্যটি ‘অচিন পাখি’।

বিমান সূত্রে জানা গেছে, দুটি ড্রিমলাইনারের মধ্যে একটি যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল থেকে বাংলাদেশের পথে রওনা দেবে ১৯ ডিসেম্বর। দ্বিতীয়টি সেখান থেকে উড়বে ২১ ডিসেম্বর।

বিমানবহরে বর্তমানে উড়োজাহাজ রয়েছে ১৬টি। এগুলোর মধ্যে নিজস্ব উড়োজাহাজের সংখ্যা ১০। বাকি ৬টি লিজে আনা। নিজস্ব ১০টি উড়োজাহাজের সবই বোয়িং কোম্পানি থেকে কেনা। এর মধ্যে চারটি ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৮, চারটি ৭৭৭-৩০০ ইআর ও দুটি ৭৩৭-৮০০।

নতুন দুটি ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজ নিয়ে বিমানের উড়োজাহাজ হবে ১৮টি। আগামী বছর কানাডা থেকে কেনা তিনটি ড্যাশ-৮ দেশে আসছে।

আরএম/এসআর/পিআর