কোনো মসজিদ ভাঙা হবে না, সেগুলো অ্যাডজাস্ট করা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৫৬ পিএম, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯

ঢাকা, টঙ্গী ও নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা ও ধলেশ্বরী নদীর তীরভূমিতে অননুমোদিতভাবে গড়ে ওঠা কোনো মসজিদ ভাঙা হবে না, সেগুলো ‘অ্যাডজাস্ট’ করা হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে বিআইডব্লিউটিএ ভবনে ঢাকা, টঙ্গী ও নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও ধলেশ্বরী নদীর তীরভূমিতে অননুমোতিভাবে গড়ে ওঠা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ স্থানান্তরের বিষয়ে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা জানান।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মসজিদগুলো আলোকিত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত করা হবে। সুন্দর স্থাপত্য ডিজাইন থাকবে। মসজিদ দেখে মন ভরে যাবে। সেক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা দরকার। সরকার সহায়তা করবে। ধর্ম মন্ত্রণালয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে বৈঠক করে মসজিদগুলোর অ্যাডজাস্টের লক্ষ্যে সাব-কমিটি গঠন করা হবে।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনারা সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এখানে এসেছেন। আল্লাহ আপনাদের সৎ উদ্দেশ্য কবুল করুন। আপনাদের মতামতের ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আপনাদের সাথে আবার আলোচনা করা হবে।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শুধু ঢাকার নয়, পুরো বাংলাদেশের নদীগুলোকে রক্ষা করতে হবে। যদি নদীগুলো রক্ষা করতে না পারি তাহলে বাংলাদেশকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। আপনাদের সাথে নিয়ে নদী রক্ষায় যুদ্ধ করতে চাই।

তিনি বলেন, নদীতীর রক্ষা, দখল ও দূষণরোধে অপসারণ কার্যক্রমের সময় আমরা ধর্মীয় পবিত্র জায়গাগুলোতে হাত দিতে পারতাম, কিন্তু করিনি। পবিত্র ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নামাজ আদায়ের জন্য এগুলো করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিবসহ মুফতি, মাওলানা সাহেবদের সাথে এসব বিষয়ে এর আগে বৈঠক হয়েছে। তারা বলেছেন, কোথায় মসজিদ নির্মাণ করা যাবে, আর কোথায় করা যাবে না। মুফতি মাওলানা সাহেবদের পরামর্শ নেয়া হবে।

তিনি বলেন, নদীগুলোর মর্মান্তিক অবস্থা দেখলে অসুস্থ হয়ে পড়বেন। নদীগুলোকে রক্ষা করা দরকার। এজন্য সামগ্রিক ঐক্য দরকার। প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা নদী উদ্ধারে জোর দিয়েছেন। সরকার জনগণের সেবক। বঙ্গবন্ধুর কন্যার রক্তের মধ্যে সেবার কথাটি লেখা রয়েছে।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পরিবেশ দূষণমুক্ত করে নদীগুলোকে সুন্দর করতে চাই। আগামী ১০-১২ বছরের মধ্যে বুড়িগঙ্গার পানি স্বচ্ছ করতে চাই। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীরভূমিতে সীমানা পিলার, তীররক্ষা, ওয়াকওয়ে ও জেটিসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণে প্রকল্পের কাজ চলমান। নদী তীরে অবৈধ স্থাপনা অপসারণে সহযোগিতার জন্য মিডিয়ার বন্ধুদের প্রতিমন্ত্রী ধন্যবাদ জানান।

উল্লেখ্য, ঢাকা, টঙ্গী ও নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও ধলেশ্বরী নদীর তীরভূমিতে (বৃত্তাকার নৌপথ অংশে) অননুমোতিভাবে ১১৩টি ধর্মীয়/ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এগুলোর মধ্যে ৭৭টি মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা ও মাজার, পাঁচটি কবরস্থান ও মৃত ব্যক্তির গোসলখানা, একটি ঈদগাহ, ১৪টি স্কুল ও কলেজ, ১৩টি শ্মশানঘাট, মন্দির এবং তিনটি অন্যান্য স্থাপনা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন সচিব মো. আবদুস সামাদ, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ হাফেজ আবদুর রাজ্জাক, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর এম মাহবুব উল ইসলাম, নৌপুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম, আতাউল্লাহ হাফেজ, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক প্রমুখ।

এইউএ/এনএফ/জেআইএম