‘নির্মাণ কাজের ঝুঁকি কমাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার জরুরি’

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:২৮ পিএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তি, প্রাতিষ্ঠানিক এবং সরকারি পর্যায়ের নির্মাণ খাতে ব্যাপক কাজ হচ্ছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিকদের উদাসীনতা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার না হওয়া এবং আইন প্রয়োগের অভাবসহ নানাবিধ কারণে নির্মাণকাজে ঝুঁকি কমানো সম্ভব হচ্ছে না।

এক্ষেত্রে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় পূর্বপরিকল্পনা, শ্রমিক ও নির্মাণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে তাদের পূর্ববর্তী কাজের পারফরম্যান্স অনুযায়ী ভবিষ্যতে মূল্যায়ন করা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, অংশীজনদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি, আইনের যথাযথ প্রয়োগসহ নানা পদক্ষেপ নিলে নির্মাণকাজে ঝুঁকি নিরসন করা সম্ভব।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দ্য ডেইলি স্টার সেন্টারে ‘নির্মাণ ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত প্রস্তাবনা: সচেতনতা বাড়াতে অংশীজনদের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে আলোচকরা এসব কথা বলেন। আরএফএল পাইপ অ্যান্ড ফিটিংসের সহযোগিতায় বৈঠকের আয়োজন করে দ্য ডেইলি স্টার। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন ডেইলি স্টারের সহযোগী সম্পাদক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহেদুল আনাম খান।

বৈঠকে বিল্ডিং টেকনোলজি অ্যান্ড আইডিয়াস লিমিটেডের (বিটিআই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এফ আর খান বলেন, ‘নির্মাণকাজের ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে সামষ্টিক উদ্যোগ নিতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সচেতনতার অভাবে নানা ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। তাছাড়া নির্মাণ শ্রমিকরা সেফটি ইকুইপমেন্ট পরিধান করতে উদাসীনতা দেখান।’

তিনি আরও বলেন, ‘শ্রমিকরা যাতে সাবধানতার সঙ্গে কাজ করে সেজন্য তাদের নিবন্ধন প্রথা চালু করা যেতে পারে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে পারে।’

আরএফএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর এন পাল বলেন, ‘নির্মাণকাজের সঙ্গে যারা জড়িত তারা পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও আইন যথাযথভাবে মেনে চললে নির্মাণকাজের ঝুঁকি নিরসন করা সম্ভব হবে।’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সাইফুল আমিন বলেন, ‘নির্মাণকাজ সংশ্লিষ্ট নানা ধরনের আইন রয়েছে। তবে অনেকেই না জানার কারণে এসব আইন মানেন না। যারা প্রয়োগের দায়িত্বে আছেন তারাও ঠিকমতো প্রয়োগ করেন না।’

নির্মাণকাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যারা সম্পৃক্ত তাদের সবাইকে নিবন্ধনের অধীনে আনার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘তাহলে সবার জবাবদিহিতা বাড়বে’।

সেন্টার ফর হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবু সাদেক বলেন, ‘নির্মাণকাজের ঝুঁকি কমাতে প্রচলিত নির্মাণ সামগ্রীর পরিবর্তন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এছাড়া ভবন, সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা পর্যায়েই ঝুঁকিগুলো শনাক্ত করতে হবে। এতে ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে।’

সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু সালেহ মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, ‘দরপত্র আহ্বানের সময় নির্মাণকাজের ঝুঁকি মোকাবিলার শর্তগুলো উল্লেখ করতে হবে, যাতে ঠিকাদার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেগুলো মেনে চলতে বাধ্য হয়।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রির (বিএসিআই) সভাপতি এস এম খোরশেদ আলম, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক উদ্দিন, ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) অনারারী অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল প্রকৌশলী খায়রুল বাশার ও ইউনাইটেড হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রওশন আরা খানম।

এফআর/পিআর