এলাকাভিত্তিক চাহিদা মাথায় রেখেই স্মার্ট সিটির ডিজাইন করা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:০০ পিএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, ঢাকা হবে স্মার্ট সিটি; তবে অবশ্যই এলাকাভিত্তিক জনগণের চাহিদা ও প্রয়োজন মাথায় রেখেই ডিজাইন করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘ঢাকাকে বাসযোগ্য, সমৃদ্ধ এবং ঘাতসহনশীল মেগাসিটিতে রূপান্তর’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। বিশ্বব্যাংকের সার্বিক সহযোগিতায় ও ডিএনসিসির আয়োজনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

মেয়র আতিকুল বলেন, নানামুখী উন্নয়ন প্রকল্প ও মেট্রোরেলের মতো মেগা প্রকল্পের মাঝে ঢাকাকে সচল রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা একাধারে রাস্তা সংস্কার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিধন, বায়ুদূষণ নিরসনসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিশ্চিতকল্পে কাজ করছি। এর সঙ্গে নতুন ১৮ ওয়ার্ডের উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবা দিতেও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। নতুন এলাকায় গড়া হবে আধুনিক ও স্মার্ট সিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী। আমরা উন্নয়ন নকশার ক্ষেত্রে এলাকাভিত্তিক জনসম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই একটি ভালো স্কুলের জন্য যেন ধানমন্ডিবাসীকে উত্তরা যেতে না হয়, আবার উত্তরাবাসীকে ধানমন্ডি আসতে না হয়। কারণ আমাদের সময় বাঁচাতে হবে। একইভাবে নগরবাসী যাতে মসজিদ, বাজার, মার্কেট, শপিংমলসহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রসমূহ নিজ নিজ এলাকায়ই পায় সেভাবেই পরিকল্পনা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাস্তায় গণপরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ হচ্ছে। কারণ ঢাকা বর্তমানে দেশের মোট জিডিপির ২০-২৫ ভাগ জোগান দেয়। আমি মনে করি, শুধু যাতায়াতে নষ্ট হওয়া কর্মঘণ্টা বাঁচাতে পারলে এটি আরও বাড়বে। তবে ঢাকার মতো একটি দ্রুত উন্নয়নশীল ও ব্যস্ত নগরীর মানুষের মোটিভ, চাহিদা ও ব্যবস্থাপনার জন্য বছরব্যাপী গবেষণা ও উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা জরুরি।

atik

সেমিনারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, প্রথম প্রায়োরিটি হলো বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলার সঙ্গে সঙ্গে পুরো দেশের জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়ন করা। গত ১০ বছরে মাথাপিছু আয় একটি সম্মানজনক জায়গায় নিয়ে এসেছি, যা এখনো ক্রমবর্ধমান। ডেমোগ্রাফিক ডেভিডেন্টও এ অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি কারণ। তবে এটিও সত্য যে, এই হঠাৎ উন্নয়নের জন্যই অপরিকল্পিত নগরায়ন ও শিল্পায়ন ঘটেছে। ফলে নগর কর্তৃপক্ষ পড়েছে নতুন চ্যালেঞ্জে। যার মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন অন্যতম। এর সঙ্গে নীতিমালা না মেনে ভবন নির্মাণ ও সরকারি জমি অপদখল, জলাধার দখল হচ্ছে।

গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ঢাকা শহরের অনেক বাড়িই রাজউকের নকশা মেনে হয়নি। অনেকেই আবার কোনো রকম নকশা অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণ করেছেন। জানা মতে, ঢাকা শহরে প্রায় ১৮০০ নকশা না মেনে করা বাড়ি আছে, যাদের মালিক অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িকভাবে শক্তিশালী, তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে এসব করেছেন। আমরা বিকেন্দ্রীকরণ ও আধুনিক আবাসন গড়ে তুলতে কাজ করছি।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় সেমিনারে অন্যান্য প্যানেল আলোচকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভি, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মাদ জাহাঙ্গীর আলম, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. সুলতান আহমেদ, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান, আন্তর্জাতিক মেট্রোপলিটন সিটি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ মি. ফিলিপ ভ্যান রেনেভেল্ড, বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ মি. জন রোম, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের পরিচালক ড. মার্সি টেম্বন প্রমুখ।

এএস/এএইচ/পিআর