মহাসড়ক বিভাগের গলদের চিত্র তুলে ধরলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:২১ পিএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং এর অধীন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নানা অনিয়ম, গলদ ও দুর্নীতির চিত্র ছবি আর প্রেজেন্টেশনে দেখালেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘মহাসড়কের লাইফটাইম : চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ বিষয়ক সেমিনারে তিনি বিভিন্ন অনিয়ম ও গলদের ছবি উপস্থাপন করেন। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

কেরানীগঞ্জে একটি মহাসড়ক হচ্ছে। প্রেজেন্টেশনে তার ছবি দেখিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সদরঘাটের ঠিক বিপরীতে একটা খাল দুটি নদীকে সংযুক্ত করে এর ওপর দিয়ে মাওয়া হাইওয়ে হচ্ছে। এ হাইওয়ে নির্মাণের জন্য খালের ঠিক মাঝখানে পিলার দেয়া হয়েছে। পিলার দিয়ে এ খালটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এটার ডিজাইন যখন হলো, সড়কের কেউ এটা খেয়াল করল না। পিলার দেয়া শেষ, এখন আবার এ কাজ বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। বন্ধ করে দিলেও যে বিভাগ কাজ করেছে, তারা আর এখন ভাঙবেন না। তার মানে কী, সড়ক বিভাগের ডিজাইনেও গলদ!’

তিনি বলেন, ‘যিনি একেকটা প্রকল্পের দায়িত্বে থাকেন তিনি কিছুই দেখেন না। তারা কি ডিজাইনের ডিটেইলসও দেখেন না? যখন পুরো কলাম হয়ে গেল, এখন এ টাকা নষ্ট হবে কার? সরকারের। আপনাদের বাজেট বাড়বে কোনো? আপনারা তো এভাবেই সব টাকা নষ্ট করছেন।’

প্রতিমন্ত্রী আরেকটি সড়কের ছবি দেখিয়ে বলেন, ‘এ সড়কের কাজ শেষ হয়ে গেছে। এ রাস্তায় একটি আন্ডারপাস রাখা হয়েছে। কিন্তু এ আন্ডারপাসের দায়িত্ব কেউ নিতে চায় না। এখন ওখানে সাইড লাইন করা হয়েছে। তাই সাইড লাইন দিয়েও গাড়ি যাবে, আন্ডারপাস দিয়েও গাড়ি যাবে। আমার কথা হচ্ছে, যখন একটি রোড বানাবেন, এর আশপাশের সিচুয়েশনগুলোও তো দেখতে হবে।’এসময় রোড থেকে নিচে নামার জন্য একটাও লিংক রোড রাখা হয়নি জানান তিনি।

Road

কেরানীগঞ্জের একটি ব্রিজের ওপরের ছবি দেখান প্রতিমন্ত্রী। সে ছবিতে ব্রিজের মাঝ বরাবর ডিভাইডার ভাঙা ও এর ওপর এলোমেলো কিছু অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখা যায়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এর জন্য কি খুব বেশি বাজেট ঘাটতি রয়েছে? এখানে কি গাছ, পানির সমস্যা রয়েছে?’

এরপর আরও একটি ছবি দেখিয়ে বলেন, ‘রাস্তা দখলে চলে গেছে ফেরিওয়ালার। রাস্তায় একটা বাতিও জ্বলে না। বাসের গতি এত কম, বাসের আগে রিকশা যাচ্ছে! এগুলো দেখার জন্য সড়ক বিভাগের কেউ নেই।’

পোস্তগোলা ব্রিজের ওপরের ছবি দেখিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা টোল আদায় করছেন অথচ সেখানে কোনো স্পিড ব্রেকার নেই। একগাড়ির টোল আদায় করতে গিয়ে শতশত গাড়ির জ্যাম তৈরি হচ্ছে। এই রাস্তা দিয়েই পদ্মা সেতু যাওয়া লাগবে। এখানে যদি এরকমভাবে টোল আদায় করা হয়, তাহলে পদ্মাসেতু যেতে আপনাকে সারাদিনের জন্য রওনা দিতে হবে।’

বিআরটিএর একটি ছবি দেখিয়ে বলেন, ‘অনেক লোক কাজ করছে, পাশেই রাখা হয়েছে সিএনজি সিলিন্ডার। সিএনজি সিলিন্ডার তো মারাত্মক, কীভাবে বিআরটিএ এ সিলিন্ডার রাখে! বিআরটিএর অফিসের অপর একটি ছবি দেখিয়ে বলেন, ‘কোনো দালাল নাই কিন্তু কাউন্টারের সামনে দুজন দালাল রয়েছে। এটাও গতকালকের ছবি। উনাদের থেকে গাড়ির ঠিকমতো ফিটনেসের সনদ কীভাবে আশা করা যায়!’

নসরুল হামিদ বলেন, ‘মহাসড়ক বিভাগ স্ট্যান্ডার্ড নয়। বিশ্বে কোনো প্যারামিটারেই তারা স্ট্যান্ডার্ড নয়। আমি সপ্তাহে অন্তত তিন থেকে চার দিন কেরানীগঞ্জ যাই। মহাসড়কে কোথাও কোনো সাইন নেই। কেউ যদি হানিফ ফ্লাইওভারে ওঠে, সে বুঝবে সে কোথায় যাচ্ছে। কাঁচপুর কোন দিকে জানেন না, পোস্তগোলা, কেরানীগঞ্জ কোন দিকে জানার কোনো উপায় নেই।’

তিনি বলেন, ‘রাস্তা তৈরিতে যত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া হয়, তাদের অধিকাংশের কোনো যন্ত্রপাতি নেই। রাস্তার পাশেই বড় একটি টিনের পাত্রে বিটুমিন গুলাচ্ছে, কিছু কাঠ দিয়ে পোড়াচ্ছে, সারা এলাকা ধোঁয়াতে অন্ধকার। এখনও বিটুমিন দিয়ে রাস্তা রিপিয়ার চলছে। প্রোপার যন্ত্রপাতি ছাড়া প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ কেন করেন?’

সেমিনারে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. একাব্বর হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম।

এমইউএইচ/এসআর/পিআর