সময়সীমা পার হলেই গ্রামীণফোন-রবিতে প্রশাসক

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫০ এএম, ১৩ জানুয়ারি ২০২০

পাওনা আদায়ে আদালতের নির্দেশ না মানলে সময়সীমা পার হলেই গ্রামীণফোন-রবিতে প্রশাসক বসানো হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

রোববার সচিবালয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় দুই অপারেটরের কাছে অডিট আপত্তির পাওনা দাবির বিষয়ে আলোচনায় এমন নির্দেশনা দেন তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। উপস্থিত ছিলেন বিভাগের সচিব নূর-উর রহমান, বিটিআরসির চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হকসহ বিভাগ ও বিভাগের বিভিন্ন দফতরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, অপারেটর দুটির কাছে পাওনা ইস্যুতে আর কোনো সমঝোতার উদ্যোগ নয় বরং আদালত যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন সেভাবেই বিটিআরসি এগিয়ে যাবে। সেই অনুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আদালতের দেয়া সময়সীমার মধ্যে নির্দেশনা না মানলে সময়সীমা শেষ হওয়ার একদিন পরই প্রশাসক বসিয়ে দেয়া হবে।

এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসারে কাজ করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা। সে অনুযায়ী আদালতের নির্দেশনা না মানলে সময়সীমার দিন পার হলেই প্রশাসক বসিয়ে দিতে বলেছেন তিনি। আমরা আইনের মধ্যে থেকে সবগুলো বিষয় কাভার করেছি। বারবার আলাপ-আলোচনা করে সমঝোতার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন আর সমঝোতার সুযোগ নেই, কোনো শব্দ উচ্চারণ করার সুযোগ নেই।

মন্ত্রী বলেন, প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত, নোটিশ সবই আগেই দেয়া হয়েছে। বাদ ছিল শুধু প্রশাসক ঠিক করা।

উল্লেখ্য, গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৯৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং রবির কাছ ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি)। ২০১৯ সালের শুরুর দিকে ওই টাকা দাবি করে কমিশন দুই অপারেটরকে চিঠি দেয়। ২০১৯ সালের ২৪ নভেম্বর গ্রামীণফোনকে বিটিআরসির দাবি করা ১২ হাজার ৫৯৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকার মধ্যে দুই হাজার কোটি টাকা জমা দেয়ার নির্দেশনা দিয়ে এ আদেশ দেন আপিল বিভাগ।

আদেশে বলা হয়, নির্ধারিত সময় তিন মাসের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করতে পারলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে বিটিআরসি। তবে গ্রামীণফোন শুরু থেকেই এই দাবিকে অযৌক্তিক বলে আসছে। পর্যায়ক্রমে দেশের আদালতে যাওয়ার পাশাপাশি অপারেটরটি তাদের বিনিয়োগকারীদরে মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আদালতে শুনানিতে যাওয়ার বিষয়ে একটি নোটিশও সরকারকে পাঠায়। এমনকি মহামান্য রাষ্ট্রপতিকেও ‘উকিল নোটিশ’ পাঠায় অপারেটরটির মূল কোম্পানি টেলিনর।

অন্যদিকে ২০১৯ সালের ৩১ জুলাই পাওনা আদায়ে রবিকে চিঠি দেয় বিটিআরসি। গত ৫ জানুয়ারি রবিকে পাঁচ মাসে সমান কিস্তিতে ১৩৮ কোটি টাকা বিটিআরসিকে দিতে নির্দেশ দেন আদালত। অডিট আপত্তিতে বিটিআরসিতে দাবি করা মোট পাওনা ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ ৯১ হাজার ৪৭৬ টাকার মধ্যে আপাতত এই টাকা পরিশোধ করতে হবে অপারেটরটিকে। প্রথম কিস্তি দিতে হবে ৩০ জানুয়ারির মধ্যে। রবিও তাদের কাছে বিটিআরসির এই পাওনা দাবিকে অযৌক্তিক বলছে।

বিএ/পিআর