নির্বাচন পেছানোর বিক্ষোভে অস্ত্র উঁচিয়ে হুমকি, গণধোলাই

ফাইল ছবি

৩০ জানুয়ারি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন পেছানোর দাবিতে বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে শাহবাগ মোড়ে আন্দোলন করছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা। এ সময় গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন আলিফ নামে এক ব্যক্তি। তার গাড়ি যেতে দিতে শিক্ষার্থীদের বলেন তিনি। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তার গাড়ি না যেতে দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে পকেট থেকে অস্ত্র বের করেন এবং শিক্ষার্থীদের ভয় দেখান।

এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাকে গাড়ি থেকে বের করে গণধোলাই দেন। পরে আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে শাহবাগ থানা এবং বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঢামেক ক্যাম্প পুলিশের সহকারী ইনচার্জ জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আহত আলিফকে পুলিশি প্রহরায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার সাজ্জাদ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আলিফের বন্দুকের লাইসেন্স ছিল। তিনি আন্দোলনকে নিজের জীবনের হুমকি মনে করেছিলেন বলেই অস্ত্র প্রদর্শন করেন। তাকে আটক করা হয়নি। পুলিশি প্রহরায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।’

ডিসি আরও বলেন, ‘তিনি লাইফ থ্রেটে থাকলে অস্ত্র প্রদর্শন করতে পারেন।’

আহত আলিফ মতিঝিলের গোল্ডেন ট্রাভেলস নামে একটি ট্রাভেল এজেন্সির মালিক। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘সকালে আমার বাসা কাঠালবাগান থেকে স্ত্রী ও ভাগনিকে নিয়ে গাড়িতে অফিসের দিকে যাচ্ছিলাম। শিক্ষার্থীরা গাড়ি যেতে না দিলে আমি গাড়ি থেকে বের হয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে যাই। এ সময় তারা মারধর করে।’

এ ঘটনায় আলিফের অস্ত্রটি ‘খোয়া গেছে’ বলে দাবি করেন তিনি।

এর আগে সকাল থেকে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তারিখ পেছানোর দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে সড়ক অবরোধ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা। এতে ওই এলাকার আশপাশের সব সড়কে যান চলাচল বন্ধ হলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

বুধবার সকালে নির্বাচন পেছানোসহ দুটি দাবিতে তাদের দেয়া ১৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষ হয়। এরপর রাজু ভাস্কর্যে বিক্ষোভ করে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও করতে যাত্রা শুরু করে ঢাবি শিক্ষার্থীরা। সে সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শাহবাগে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন।

শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তারিখ ১৫ জানুয়ারি বেলা ১২টার মধ্যেই পরিবর্তন করা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের দায়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কমিশনার ও কর্মকর্তাদের পদত্যাগ করা।

এআর/এএইচ/পিআর