আশ্বাস পেয়ে সড়ক ছাড়লেন পোশাক শ্রমিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১:১৯ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২০

বিজিএমইএ-এর প্রতিনিধি দলের আশ্বাসে আড়াই ঘণ্টা পর রাজধানীর শ্যামলীর সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা। এরফলে যান চলাচল শুরু হয়েছে ওই সড়কে। সড়কে যানবাহনের চলাচলে গতি ফেরাতে কাজ করছে ট্রাফিক বিভাগ, থানা পুলিশ ও র্যাব।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বকেয়া বেতন-ভাতা ও নতুন বছরের ইনক্রিমেন্ট ও ছুটি বাবদ টাকার দাবিতে শ্যামলীর সড়ক অবরোধ করেন আদাবর এলাকার ডায়নামিক ফ্যাশন নামের একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।

কল্যাণপুর ও শ্যামলীর মাঝামাঝি সড়কের শ্রমিকদের অবস্থানের কারণে সড়কের দুই পাশেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

আদাবরের রিং রোড এলাকার পোশাক তৈরি কারখানাটির আসমা বেগম নামে এক নারী শ্রমিক বলেন, প্রতিষ্ঠানে তাদের তিন মাসের বেতন বাকি। নতুন বছরে ইনক্রিমেন্টও দেয়া হচ্ছে না তাদের। দাবি জানালেই দেয়া হচ্ছে ছাঁটাইয়ের হুমকি।

তিনি বলেন, আমরা মালিকের সাথে বসতে চেয়েছি, কিন্তু তিনি দেখা দিচ্ছেন না, উল্টো ডিসেম্বর মাসের বেতনও আটকে দিয়েছেন। আজ দেবে কাল দেবে বলে আমাদের বসিয়ে রেখেছে, আমাদের কাজও করতে দিচ্ছেন না, আবার বেতনও দিচ্ছিল না। বাধ্য হয়ে আজ আমরা সড়কে নেমেছি।

দুপুর পৌনে ১২ টার দিকে বিজিএমইএ'র একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা শ্রমিকদের দাবি দাওয়া পূরণের আশ্বাস দিলেও শ্রমিকরা বিক্ষোভ করতে থাকেন। এসময় গণপরিবহন থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায় সাধারণ মানুষদের।

পরে দুপুর ২টার মধ্যে শ্রমিক প্রতিনিধি দলক সাথে নিয়ে মালিক সংগঠন ও গার্মেন্টস মালিক কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠকের ঘোষণা এবং দাবিদাওয়া পূরণের আশ্বাস দিয়ে সড়ক থেকে উঠিয়ে দেয়া হয় শ্রমিকদের। বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ফের যানচলাচল শুরু হয়েছে ওাি সড়কে।

এ ব্যাপারে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের এডিসি (পদোন্নতিতে এসপি) ওয়াহিদুজ্জামান জানান, গার্মেন্টস শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নেয়ার পরই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। অপ্রীতিকর কিছু যাতে না ঘটে সেজন্য দ্রুত বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তাদের প্রতিনিধি দল শ্রমিক কারখানার দুই মালিকের সাথে কথা বলেন। শ্রমিকরা সমঝোতায় আসেন। দুপুরে তাদের বৈঠক হবে। এর আগে সড়ক ছেড়ে উঠে যাওয়ার অনুরোধে শ্রমিকরা চলে যান। এখন যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

সপ্তাহের শেষ দিকে সড়কে এমনিতেই যানবাহনের চাপ থাকে বেশি। তার মধ্যে আড়াই ঘণ্টা ধরে সড়ক অবরোধের কারণে, রাস্তার দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

ট্রাফিক পশ্চিম বিভাগের এডিসি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, আড়াই ঘণ্টার সড়ক অবরোধের কারণে দিনব্যাপী সংশ্লিষ্ট এলাকায় যানবাহনের চাপ থাকবে। শ্রমিকদের অবরোধের জেরে যানজট দীর্ঘ হয়ে গাবতলী ছাড়িয়ে আমিনবাজার ও ধানমন্ডি ছাড়িয়ে নিউমার্কেট পর্যন্ত চলে গেছে। এই যানজট স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।

জেইউ/এনএফ/এমএস