দেশের প্রথম ক্যাডাবেরিক ট্রান্সপ্লান্ট হবে মুজিববর্ষে

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৪:১৮ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০২০

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে দেশের প্রথম কিডনি ক্যাডাবেরিক ট্রান্সপ্লান্ট (ব্রেন ডেথ ঘোষিত রোগীর কিডনি সংগ্রহ) করা হবে।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সোসাইটি অব অরগ্যান ট্রান্সপ্লান্টের উদ্যোগে ‘মরণোত্তর অঙ্গ দান ও সংযোজন’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘আশা করি, এ দেশে ক্যাডাবেরিক ট্রান্সপ্লান্ট সার্জারি শিগগিরই আমরা করতে পারবো। মুজিববর্ষে তো অবশ্যই হবে, মুজিববর্ষ শুরু হওয়ার আগে আমরা করতে পারি কি-না সে চেষ্টা করবো।’

অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, রাজধানীসহ সারা দেশে কিডনি সার্জন ও চিকিৎসকরা সফলতার সঙ্গে প্রায় দুই হাজার কিডনি রোগীর প্রতিস্থাপন করেছেন। তার মধ্যে বিএসএমএমইউতে ৫৫৮ জন কিডনি রোগীর ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন হয়। বর্তমানে ক্যাডাবেরিক কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সম্পূর্ণ প্রস্তুুত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য তুলে ধরেন কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং সোসাইটি অব অরগ্যান ট্রান্সপ্লানটেশনের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডা. হারুন আর রশিদ।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএসএমএমইউ উপ-উপাচার্য ও বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. রফিকুল আলম, এমিরেটাস অধ্যাপক ডেক্সেল ইউনিভার্সিটি ফিলাডেলফিয়া, ইউএসএ অধ্যাপক জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ইউরোলজি অ্যান্ড ট্রান্সপ্লান্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম এ সালাম, সোসাইটি অব অরগ্যান ট্রান্সপ্লানটেশনের সাধারণ সম্পাদক ইউরোলজিস্ট অ্যান্ড ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল প্রমুখ।

অধ্যাপক ডাক্তার হারুন আর রশিদ জানান, প্রতিবছর বিশ্বে ২ কোটি মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত হন। তাদের মধ্যে ৪০ হাজার মানুষের কিডনি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যায়। অথচ মাত্র ২০ শতাংশ মানুষ কিডনি রোগের চিকিৎসা পায়। বাকি ৮০ ভাগ মানুষ চিকিৎসা সেবার বাইরে রয়ে যাচ্ছে। উন্নত বিশ্বের ৬০ ভাগের বেশি মানুষ মরণোত্তর কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে নতুন জীবন ফিরে পাচ্ছে। যদিও বাংলাদেশে ১৯৮২ সাল থেকে কিডনি সংযোজন ও ডায়ালাইসিস সেবা চালু রয়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দিনে দিনে রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সে তুলনায় অপ্রতুল জীবিত কিডনি রোগীরা কিডনি প্রতিস্থাপন করতে পারছেন না।

এমইউ/এমএসএইচ/এমএস