ক্রীড়ায় প্রতিভা অন্বেষণ ও নিবিড় প্রশিক্ষণের জন্য আইন পাস

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:২৩ পিএম, ২৮ জানুয়ারি ২০২০

বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) অধ্যাদেশ রহিত করে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আইন, ২০২০ বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। ক্রীড়া ক্ষেত্রে প্রতিভা অন্বেষণ ও স্নাতক-স্নাতকোত্তর ডিগ্রিসহ নিবিড় প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টিই নতুন এ আইনের লক্ষ্য।

মঙ্গলবার বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম, রওশন আরা মান্নানের দুটি সংশোধনী গ্রহণ করা হয়। বিলের ওপর আনীত জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানো ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, পীর ফজলুর রহমান, মুজিবুল হক, ডা. রুস্তম আলী ফরাজী, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বিএনপির হারুনুর রশীদ ও ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, গণফোরামের মোকাব্বির খান ওই সংশোধনী প্রস্তাবগুলো আনেন।

পরে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আইন, ২০২০ বিলটি পাস করার প্রস্তাব করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল।

বিলে যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রীকে বোর্ডের চেয়ারম্যান ও প্রতিমন্ত্রীকে ভাইস চেয়ারম্যান এবং ক্রীড়া সচিব, অর্থ সচিবসহ ১৯ সদস্যবিশিষ্ট বিকেএসপি পরিচালনা বোর্ড গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। বিলে অধ্যাদেশ বলে প্রতিষ্ঠিত বিকেএসপিইর সব কার্যক্রম এই আইনের অধীনে হয়েছে বলে গণ্য হবে। এ ছাড়া এ প্রতিষ্ঠানের সব সম্পদ অধিকার ক্ষমতা, সব ঋণ দায় ও দায়িত্ব, সব চুক্তিসহ মামলার ধারাবাহিকতা একইভাবে বহাল থাকবে।

বিলে ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে বলা হয়, ‘উন্নতমানের ক্রীড়া বিজ্ঞানী, কোচ, রেফারি ও আম্পায়ার তৈরি, বিভিন্ন দেশীয় খেলাধুলার বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার আয়োজন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক ও যোগাযোগ স্থাপন হলো এ প্রতিষ্ঠানের কাজ।’

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১৯৮২ সালে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের ঘোষণা বলে প্রতিষ্ঠিত হয়। সামরিক ফরমান বলে জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলোর অনুমোদন ও সমর্থনসংবলিত সংবিধানের চতুর্থ তফশিলের ১৯ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত করেন আদালত। একই সঙ্গে সংবিধানের সপ্তম সংশোধন আইন ১৯৮৬ বাতিল ঘোষিত হওয়ায় ওই অধ্যাদেশের কার্যকারিতা লোপ পায়। কিন্তু অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে বিকেএসপিসহ কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকর রাখতে ২০১৩ সালে প্রণীত আইন দ্বারা সুরক্ষা দেয়া হয়। ওই অধ্যাদেশের আবশ্যকতা ও প্রাসঙ্গিকতা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জন করে বাংলা ভাষায় নতুনভাবে আইন প্রণয়নের জন্য সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অধ্যাদেশ রহিত করে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আইন, ২০১৯ বিল সংসদে উত্থাপন করা হলো।’

এইচএস/জেডএ/এমএস