নিউমোনিয়ায় বাংলাদেশে ঘণ্টায় এক শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৩১ পিএম, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

নিউমোনিয়ায় বাংলাদেশে প্রতি ঘণ্টায় একজন শিশু মারা যাচ্ছে। অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা, অপুষ্টি ও বায়ুদূষণে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর মূল কারণ। সেফ দ্য চিলড্রেনের ২০১৯ সালের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

জানুয়ারির ২৯-৩১ তারিখ পর্যন্ত স্পেনের বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল নিউমোনিয়া ফোরাম’-এ বাংলাদেশ থেকে দুইজন সরকারের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন- শামছুল হক, লাইন ডিরেক্টর, এমএনসিএন্ডআহ এবং শরীফুল ইসলাম, প্রোগ্রাম ম্যানেজার, ন্যাশনাল নিউবর্ন হেলথ প্রোগ্রাম অ্যান্ড আইএমসিআই। দুইজনই স্বাস্থ্য ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন।

এই গ্লোবাল ফোরামে সেভ দ্যা চিলড্রেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন ডা. গোলাম মোতাব্বির।

জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় ও সেভ দ্য চিলড্রেনের পক্ষ থেকে যৌথভাবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘নিউমোনিয়ার কারণে বাংলাদেশে শিশু মৃত্যু একটি শীর্ষস্থানীয় কারণ। এই রোগের কারণে দেশের ১৩ শতাংশ শিশু মৃত্যুবরণ করছে, যাদের বয়স পাঁচ বছরেরও কম। তবে নিউমোনিয়ার বিরুদ্ধে সঠিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলে ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে আগামী দশকের মধ্যে ভয়ংকর এ রোগ থেকে অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর বয়সী শিশু মৃত্যু হার কমানো সম্ভব।’

children-1

সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিউমোনিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশে দশ বছরে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার শিশুকে নিউমোনিয়া ও অন্যান্য বড় রোগের কারণে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্লোবাল ফোরামে জাতীয় সরকারি অধিবেশনে প্যানেলিস্ট হিসেবে শামছুল হক বলেন, ‘সরকার সফলভাবে একটি জাতীয় কৌশল তৈরি করেছে যা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত উন্নয়ন কর্মসূচিতে অপারেশনাল পরিকল্পনায় একীভূত ও সংহত থাকবে। বাংলাদেশ সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে নিউমোনিয়াজনিত কারণে শিশু মৃত্যুহার কমাতে জিএপিপিডি লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।’

শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘পুষ্টিহীনতার ঘাটতি পূরণ করা এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর পাশাপাশি আমরা একটি জাতীয় নিউমোনিয়া প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কৌশলের লক্ষ্য গ্রহণ করেছি, যাতে করে টিকাদানের মাধ্যমে পর্যাপ্ত ও সঠিক যত্ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’

এমএইচএম/এফআর/পিআর