মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় তৃতীয় হওয়া শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টা

ঢামেক প্রতিবেদক
ঢামেক প্রতিবেদক ঢামেক প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৪৬ পিএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

২০১৮ সালের মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধা তালিকায় তৃতীয় স্থান অর্জন করা সজীব চন্দ্র রায় (২১) আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) দ্বিতীয় বর্ষে পড়তেন তিনি।

অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করায় শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢামেকে আনা হয়। সর্বশেষ রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেয়া হয়। সেখানেই চলছে তার চিকিৎসা।

ঢামেক ক্যাম্প পুলিশের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর বাচ্চু মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘সজীব ঢামেকের ফজলে রাব্বী হলের ৩০৫ নম্বর রুমে থাকত। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় সে হল থেকে বের হয়। পরে শনিবার সায়দেবাদের ছায়ানিড় হোটেলের তৃতীয় তলার একটি রুম থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। বর্তমানে সে ঢামেকের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের আইসিইউতে ভর্তি।'

jagonews24

সজীবের বন্ধু রিপন জাগো নিউজকে বলেন, 'সে প্রচুর ডিপ্রেশনে (বিষণ্ণতায়) ভুগছিল। তবে এ কারণে সে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে কি না আমি তা নিশ্চিত নই।'

২০১৮ সালে সমন্বিত মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় তৃতীয় হয়ে সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেন কাঠুরের ছেলে সজীব। তার বাড়ি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায়। তার বাবা মনোধর চন্দ্র রায় সংসারের ভরণ-পোষণ নির্বাহের জন্য এক সময় রিকশা ভ্যানও চালান। পরে ছেলের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে সেই রিকশা ভ্যান বিক্রি করে শুধু কাঠুরিয়ার কাজ করেন।

২০১০ সালে বাড়ির পার্শ্ববর্তী কাঠগড় আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় গোটা বীরগঞ্জ উপজেলার মধ্যে প্রথম হন তিনি। পরে স্থানীয় গোলাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৩ সালে জেএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ সহ ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি এবং একই বিদ্যালয় থেকে ২০১৬ সালে এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ এর কৃতিত্ব অর্জন করেন।

এআর/এফআর/এমকেএইচ