ইমিগ্রেশনে কাউন্টার সংকটে শাহ আমানতে ফ্লাইট দেরি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৯:৩৭ পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

-ইমিগ্রেশনে কাউন্টার সংকটের কারণে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ডিলে (দেরি) হয় বলে জানিয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের স্টেশন ব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) ইমরুল হাসান আনসারী। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা জানান।

ইমরুল হাসান আনসারী, ‘সপ্তাহে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের তিনটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটসহ অন্যান্য আরও বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন্স এ বিমানবন্দর ব্যবহার করেছে। যে অনুপাতে আমাদের ট্রানজেকশন বেড়েছে সে অনুযায়ী যাত্রী সেবার মান আমরা দিতে পারি না। এ বিমানবন্দরে ১০টি ইমিগ্রেশন ও ১০টি চেকিং পয়েন্ট রয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুব স্বল্প।’

তিনি বলেন, ‘এয়ারপোর্টটা যেহেতু একটা সময়ে তৈরি করা হয়েছিল, কিন্তু পরে আমরা তার ব্যবহার বাড়িয়ে ফেলেছি। এখানে একটু রি-এরেঞ্জ করা গেলে থার্টি টু ফোরটি ভাগ সেবার মান ইমপ্রুভ (উন্নতি) করা যাবে। ইমিগ্রেশনের স্বল্পতার কারণে ফ্লাইট ডিলে হয়। আমাদের তাড়াহুড়া হয়। ১০টার জায়গায় ১৭টা হলে থার্টি-ফোর্টি পার্সেন্ট ইমপ্রুভ হবে।’

এছাড়া যাত্রীদের ব্যাগেজ বহনে স্পেস না থাকায় বিভিন্ন সমস্যা ও হাইড্রেন ছাড়া বে অপারেট করার কারণে সময় অপচয় হয় বলে জানান তিনি।

আরেক সহকারী স্টেশন ম্যানেজার বলেন, ‘চট্টগ্রামে ১০ বছর কাজ করছি। আগে দর্শনার্থী এয়ার ক্রাফটের কাছে পৌঁছে যেত। যা এখন অসম্ভব বিষয়। তবে চেকিং কাউন্টারের স্বল্পতা আছে। একসঙ্গে অনেক ফ্লাইট এলে এক-দেড় ঘণ্টা লেগে যায়। এক এয়ারলাইন্সের ব্যাগেজ অন্য এয়ারলাইন্সে চলে যায়।’

Amanat-(2).jpg

শুনানিতে কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে চিকিৎসক সুবিধা বাড়ানো ও যাত্রীদের জন্য হেল্প ডেস্কের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রাম দেশের ইকোনোমিক হাব, অর্থনীতির চালিকাশক্তি। এখানে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, ইপিজেডসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আছে। বাণিজ্যিক রাজধানী ও গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল এটি। ধাপে ধাপে এ বিমানবন্দরের চাহিদা বাড়ছে। ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। এমিরেটস, ইত্তেহাদ, কাতার এয়ারওয়েজ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। সবাই চাচ্ছে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য। আমরাও ভাবছি কীভাবে এ বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ করা যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের যতগুলো বিমানবন্দর আছে তার মধ্যে চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দর অন্যতম। সবাইকে চেষ্টা করতে হবে কীভাবে সুশৃঙ্খলভাবে এ বিমানবন্দর চালানো যায়। শাহ আমানত বিমানবন্দরে শুধুমাত্র একজন আবাসিক চিকিৎসক রয়েছেন। মূলত, বিমানবন্দরে চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি এতদিন সিভিল অ্যাভিয়েশনের পরিকল্পনায় ছিল না। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির পর এ বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বিমানবন্দরে কোনো যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসা দেয়ার জন্য একটি মেডিকেল টিম তৈরির কাজ চলছে। নতুন অর্গানোগ্রামে চিকিৎসক পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নিচ্ছি।’

এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা দিলে নতুন ডেস্ক দেয়া যাবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এখানে যেটুকু জায়গা আছে তার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। অনেক প্রবাসী শ্রমিক বিমানবন্দরের নিয়ম কানুন জানেন না। অনেক জার্নি (ভ্রমণ) করে। ভোগান্তিতে পড়েন। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের কর্মকর্তারা তাদের সহায়তা করবেন।’

এ সময় তিনি শাহ আমানত বিমানবন্দরের থার্মাল স্ক্যানার মেশিনটি সচল করার জন্য উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

যাত্রী সেবার মান বেড়েছে বলে মত দিয়ে কামাল উদ্দিন নামে এক যাত্রী বলেন, ‘আমি পাঁচ বছর ধরে এ বিমানবন্দর দিয়ে আসা-যাওয়া করছি। এখন সেবার মান অনেক বেড়েছে। আজ মাত্র ১০ মিনিটে আমার ইমিগ্রেশন হয়ে গেছে। বিদেশে সব ডিজিটাল, তাই আগামীতে এখানেও ডিজিটাল সেবা বাড়াতে হবে।’

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক গোলাম রব্বানি রিগ্যান বলেন, ‘ঢাকায় রানওয়েতে শাটল বাস আছে, চট্টগ্রামে নেই। আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য মানি এক্সচেঞ্জ বুথ, ব্যাংকের বুথ ও রিফ্রেশমেন্ট কর্নার বাড়াতে হবে।’

Amanat-(2).jpg

জবাবে মফিদুর রহমান বলেন, ‘এখানে যেহেতু রানওয়ে থেকে বিমানবন্দর ভবন ততটা দূরে নয়, তাই আলাদা গাড়ির প্রয়োজন হয় না। তবে যদি ফ্লাইট দূরে অবস্থান করে তাহলে অবশ্যই গাড়ির ব্যবস্থা করতে হবে।’

বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার সারওয়ার ই জামান বলেন, ‘২০১৯ সালে এ বিমানবন্দর ব্যবহার করে গমনাগমন করেছেন ১৭ লাখ ৭৮ হাজার যাত্রী। বর্তমানে বিশ্বের ৯টি রুটে তিনটি বিদেশি এয়ারলাইন্স সংস্থাসহ মোট ৯টি সংস্থা এ বিমানবন্দর থেকে যাত্রী ও কার্গো পরিবহন করছে। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সপ্তাহে ৫৬০টি এবং প্রতিদিন ৪০টি বিমান অবতরণ ও উড্ডয়ন করে থাকে। ২০১৯ সালে এ বিমানবন্দর দিয়ে ২৩৯৩ মেট্রিকটন কার্গো রফতানি হয়েছে, এছাড়া আমদানি করা হয়েছে ৬৮৮১ টন কার্গো। গত ১০ বছরে বিমানবন্দরে ফ্লাইট সংখ্যা বেড়েছে ১ দশমিক ৮ গুন, যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে ৩ দশমিক ১২ গুন এবং কার্গো পরিবহন বেড়েছে ৮ দশমিক ৯ গুন।’

আবু আজাদ/এফআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]