২১ বছর বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলা হয়েছিল : প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:৩২ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০
ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর ’৭৫ থেকে ’৯৬ এই ২১ বছর বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু পারেনি। সত্য ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। গোয়েন্দাদের রিপোর্ট থেকে সত্য ইতিহাস বের হয়ে এসেছে।

শনিবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নের পথে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে একটি আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পাকিস্তান থেকে ফিরে এলেন বঙ্গবন্ধু। তিনি দেশ গঠনে মনোনিবেশ করলেন। কিন্তু পাকিস্তানের দোসররা ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিল। তারা ভাষা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে তাকে মুছে ফেলার চেষ্টা করল। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে আবারও মুছে ফেলার চেষ্টা করে। কিন্তু পারেনি। সবচেয়ে সৌভাগ্যের বিষয় জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় পালন করতে পারছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি আমরা প্রযুক্তিকেও এগিয়ে নিতে চাই। প্রযুক্তির জ্ঞান ব্যবহার করে আমরা সোনার বাংলা গড়ে তুলব। ভাষা শহীদ ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেব না। শুধু অর্থনৈতিকভাবে না, আমরা প্রযুক্তি শিক্ষাকেও গুরুত্ব দিয়েছি। সারাদেশে আজকে আমরা প্রযুক্তির ব্যবহার, ইন্টারনেট সার্ভিস দেয়া থেকে শুরু করে মোবাইল ফোন সব কিছু ব্যবহার করার সুযোগ করে দিয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে। এ ত্যাগ কখনও বৃথা যায় না। আত্মত্যাগ বৃথা যায় না। বৃথা যেতে আমরা দেব না। এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা। এ প্রতিজ্ঞা নিয়ে জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’ গড়ে তুলব। ‘মুজিববর্ষ’ সফল-স্বার্থকভাবে আমরা উদযাপন করব।

আওয়ামী লীগ আমলে বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ এক দশকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। সারা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ মর্যাদা পেয়েছে।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহামান, গবেষক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক হায়দার আলী খান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মেরিনা জামান কবিতা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহম্মেদ মান্নাফী, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান প্রমুখ।

এফএইচএস/জেএইচ/জেআইএম