ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে পরিবহন ব্যবস্থার দাবি জাপা প্রার্থীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৩:৩৩ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ঢাকার দুই সিটিতে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ায় আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে পরিবহনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির মেয়রপ্রার্থী ও চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক সোলায়মান আলম শেঠ।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে মনোনয়ন ফরম জমা দিতে এসে তিনি এ দাবি তোলেন।

সোলায়মান আলম শেঠ বলেন, ‘বিগত চট্টগ্রাম-৮ উপ-নির্বাচন এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আমরা দেখেছি, ভোট পড়ার হার ছিল অনেক কম। মূলত নির্বাচনের দিন সবধরনের পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে আসেন না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা একসময় দেখতাম রিকশা বা টেক্সিতে করে ভোটাররা কেন্দ্রে আসতেন। কিন্তু এখন নির্বাচন কমিশনের বিধি-বিধানের কারণে ভোটের দিন গাড়ি চলাচল করতে পারে না। অথচ শহরে ভোটারদের বাড়ি থেকে কেন্দ্রগুলো অনেক দূরে হয়। তাই আমি চাইব, নির্বাচন কমিশন ভোটের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনার জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করবেন।’

প্রসঙ্গত, এ বছরের জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপ-নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী মাত্র ২৪ শতাংশ ভোট পড়েছিল। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ভোট পড়েছিল ২৫.৩ শতাংশ। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৩০ শতাংশের মতো। সেসময় নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো জানায়, ঢাকা সিটি নির্বাচনে এত কম ভোটারের উপস্থিতি আগে কখনও দেখা যায়নি।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার জোট ফেমা জানায়, মূলত তরুণদের মধ্যে ভোট দেয়ার ব্যাপারে বিরাট অনীহা, নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের অনাস্থা, ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের আশঙ্কা ও ভোটের দিনে পরিবহন সঙ্কটের কারণে দেশে ভোটার উপস্থিতি দিন দিন কমছে।

‘ভোট তো দিয়েই দেবে’-ভোটারদের এই মানসিকতা পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে এই জাপা নেতা বলেন, ‘ভোট তো অন্যরা দিয়েই দেবে, আর ভোটকেন্দ্রে গিয়ে লাভ কী-ভোটারদের এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ভোটারদের আস্তা অর্জনে নির্বাচন কমিশন ও প্রার্থীদের কাজ করতে হবে।’

কেন্দ্রের গোপন কক্ষে কারা বসে থাকে, তাদের শনাক্ত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন দেখছি একজন ভোটার তার ফিঙ্গার দিলেও ভোট দিতে পারছেন না। এরা কারা তাদের শনাক্ত করতে হবে। আমরা প্রার্থীরা সবাই চাইলেই এ ধরনের ঘটনা ঠেকানো সম্ভব।’

নিজের জয়ের বিষয়ে শতভাগ বিশ্বাস আছে দাবি করে সোলায়মান আলম শেঠ বলেন, ‘পাঁচ বছর পরপর এ নির্বাচন আমাদের জন্য একটি উৎসব। গতবারও আমি প্রার্থী হয়েছিলাম। জয়-পরাজয় থাকবে। তবে এবার আমি জয়ের বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী। কারণ মানুষ পরিবর্তন চাচ্ছে।’

আবু আজাদ/এসআর/জেআইএম