নির্বাচনও কি পুলিশ ম্যানেজ করে করতে হবে, প্রশ্ন বিএনপি নেতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৮:১৫ পিএম, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

 

চট্টগ্রাম সিটি করেপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনকে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন চত্বরে সংবর্ধনা দেয়ার অনুমতি না দিয়ে উল্টো বিএনপিকে পুলিশ ম্যানেজ করার পরামর্শ দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামানের এ আচরণে প্রশ্ন তুলে বিএনপির এ নেতা বলেছেন, তাহলে নির্বাচনও কি আমাদের পুলিশকে ম্যানেজ করে করতে হবে?

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগর বিএনপির দলীয় কার্যালয় নসিমন ভবনে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

আবুল হাসেম বক্কর বলেন, ‘দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদেরকে বলতে চাই, আমরা গতকাল পুলিশ প্রশাসনের কাছে দরখাস্ত দিয়েছিলাম। রেলওয়ে স্টেশনে আমরা একটা বরণ অনুষ্ঠান করব। যেহেতু আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঘোষণার পর সেখানে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে, বিধায় আমরাও সেভাবে পুলিশ প্রশাসনের কাছে অনুমতি চেয়েছি। তখন তারা আমাদেরকে মৌখিকভাবে অনুমোদন দিয়েছেন। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে আমরা যখন সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি, রাত ১১টা বাজে আমাকে ফোন করে বলা হচ্ছে, এখানে সমাবেশ করা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘রাত ১টা পর্যন্ত আমি পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি-কেন অনুমতি দেয়া যাবে না। আপনারা তো নির্বিঘ্নে সহযোগিতা করে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে সমাবেশ করতে দিয়েছেন। তখন বলা হচ্ছে, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলেন। তখন রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে ফোন করে ডাইরেক্ট কথা বলেছি। তাকে বললাম, সব কিছু এখন নির্বাচন কমিশনের অধীনে, অনুমতি দিন। উনি বলে কি না, আপনারা পুলিশকে ম্যানেজ করেন। তাহলে কি নির্বাচনও আমাদেরকে পুলিশকে ম্যানেজ করে করতে হবে? নির্বাচন কি এভাবে করতে হবে?’

BNP

প্রশাসন প্রথম দিন থেকেই বিএনপির সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। পুলিশ প্রশাসনের বিমাতাসুলভ আচরণ বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে করেছেন। ডা. শাহাদাতকে বরণ করে নেয়ার জন্য দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় আজকে এই নসিমন ভবন চত্বরকে জনসমাবেশে পরিণত করেছেন।’

বিএনপিকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান করতে না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মেয়রপ্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এমন একটি সময়ে আমাদের এখানে প্রোগ্রাম করার কথা ছিল না। আপনারা দেখেছেন, আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী ওই রেলওয়ে চত্বরে জনসমাবেশ করেছে, আর আমাদের সেখানে করতে দেয়া হয় না। নির্বাচনের আগে প্রশাসন সমতার জায়গায় দাঁড়াতে পারেনি। আমরা আজকের এ সমাবেশ থেকে এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

এর আগে দুপুর আড়াইটায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে পৌঁছে তিনি বলেন, ‘ঢাকায় ৮০ ভাগ মানুষ ভোটকেন্দ্রে যায়নি। এর কারণ, প্রশাসনের একচোখা ভূমিকা। চসিক নির্বাচনের শুরুতে তারা আবারও একই ভূমিকায় নেমেছে। আওয়ামী লীগ বিশাল আকারে সমাবেশের অনুমতি পায়। তখন নিরাপত্তার কোনো প্রশ্ন থাকে না। আওয়ামী লীগ অনুমতি পেলে বিএনপি কেন পাবে না? আপনারা একচোখা নীতি পরিহার করে জনগণের পাশে দাঁড়ান।’

রাষ্ট্রযন্ত্র আওয়ামী যন্ত্রে পরিণত হয়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সরকার, ইসি, রাষ্ট্রযন্ত্র, আওয়ামী লীগ সবাই মিশে একাকার হয়ে গেছে। আজকে রাষ্ট্রযন্ত্র আওয়ামী যন্ত্রে পরিণত হয়ে গেছে। নৌকার প্রতীক মানেই সাত খুন মাফ, নৌকার প্রতীক মানেই লালদীঘিতে সমাবেশ, নৌকার প্রতীক মানেই রেলওয়ে চত্বরে সমাবেশ, যেখানে ইচ্ছা সেখানে সমাবেশ, ভোট ডাকাতি।’

নগরবাসীকে ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আধুনিক গ্রিন ও হেলদি (স্বাস্থ্যসম্মত) নগর গড়াই আমার লক্ষ্য। নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামকে পৃথিবীর অন্যতম পর্যটন নগরীতে পরিণত করব। জলাবদ্ধতামুক্ত একটি সুন্দর নগরীতে পরিণত করব। এখন সময় এসেছে, নৌকার প্রতীক মানেই বিজয়-এমন হীন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁতভাঙা জবাব দেয়ার। নির্বাচনের দিন স্ব-স্ব কেন্দ্র পাহারা দেবেন, নিজের ভোট নিজে দেবেন, অন্যকে উৎসাহিত করবেন।’

নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও উপস্থিতি ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও সাবেক মেয়র নাছির উদ্দিনের ছেলে ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন।

আবু আজাদ/এসআর/পিআর