সাতকানিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ আহত ১০

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ১২:০৬ পিএম, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বিরোধপূর্ণ জায়গায় রাতের আঁধারে জোরপূর্বক ভবন নির্মাণের সময় প্রতিবাদ করায় ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র হামলায় একটি পরিবারের দুই নারীসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার তেমুহানী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহতদের মধ্যে পাঁচ পুরুষ সদস্যের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- মো. রাজা মিয়া, মো. জাফর, মো. ছাবের, আব্দুল গফুর ও হৃদয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তেমুহানী মৌজার ওই জায়গার ওপর আদালতের স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা অমান্য করে রাতের আঁধারে একদল লোক ভবন নির্মাণের চেষ্টা করছিল। একাধিক মামলার আসামি ইউসুফের নেতৃত্বে চলছিল এ নির্মাণকাজ। এসময় ওই জায়গার মালিক আব্দুল গফুর প্রতিবাদ করলে ইউসুফের নেতৃত্বে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা আগ্নেয়াস্ত্র, কিরিচ এবং লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে ১০ জন আহত হন। ঘটনাটির পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল আজম বলেন, এ ঘটনায় পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ সেখানে গিয়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসী ও ধর্ষণ মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি আব্দুর রহিম ও এনামকে গ্রেফাতার করে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

সূত্র জানায়, তেমুহানী মৌজায় কিছু জমি নিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে আদালতে মামলা চলছে। তবে একটি পক্ষ ওই জমির ওপর থাকা আদালতের নিষেধাজ্ঞা না মেনে প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক পাকা স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করছে। এ নির্মাণকাজ বন্ধে গত ৬ জানুয়ারি চট্টগ্রাম অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত (মিস মামলা নং (১৮/২০) ফৌজদারি ১৪৫ ধারা) এবং গত ১৩ জানুয়ারি সাতকানিয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালত ১৫১ ধারায় নিষেধাজ্ঞা দিলেও তার তোয়াক্কা করছে না ওই পক্ষটি। বরং হুমকি-ধমকি দিয়ে এবং ভয়-ভীতি দেখিয়ে দলবল নিয়ে জোরপূর্বক রাতে ভবন নির্মাণকাজ চালাতে থাকে।

মামলার বাদীপক্ষের আবুল বশর বলেন, তেমুহানী মৌজার ৮১৮নং আরএস খতিয়ানের ২৩০৭ এবং ৩৬৫৮ দাগের ১৫ শতক জায়গার বিরোধ নিয়ে ২০০০ সালে আসামিপক্ষের বিরুদ্ধে সাতকানিয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। সে মামলা আদালতে এখনো বিচারাধীন। কিন্তু মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার আগেই বিবাদীপক্ষের মৃত নুর নবীর দুই ছেলে মো. ইউসুফ ও সামশুল আলম প্রভাব খাটিয়ে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের নিয়ে রাতে জোরপূর্বক জায়গা দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের কাজ চালাচ্ছিল। গতকাল রাতে দ্বিতীয় দফা হামলায় আমার পরিবারের দুই নারী সদস্যসহ ১০ জন আহত হয়েছে। এর আগে জানুয়ারি মাসে প্রথমবার হামলা চালিয়ে আমার পরিবারের এক নারী সমস্যসহ চারজনকে আহত করে তারা।

আবু আজাদ/এইচএ/এমকেএইচ